অতিরিক্ত চাপ সামলাতে ঈদের ৩ দিন আগে থেকে ডাবল ট্রিপ । তারুণ্য বিডি ২৪ ডটকম

0
786

ঈদ ঘনিয়ে আসছে। আর মাত্র কয়েকদিন পরই নারীর টানে ঘরে ফিরবে ধর্মপ্রাণ মানুষ। বরাবরের মতো এবারও দক্ষিণাঞ্চলের ঘরমুখো যাত্রীদের প্রধান ভরসা নৌপথ। রমজানের প্রথম সপ্তাহ থেকেই বিভিন্ন লঞ্চ কোম্পানীগুলো প্রথম শ্রেণির যাত্রীদের কেবিনের টিকেটের জন্য স্লিপ প্রথা চালু করে। মধ্য রমজান থেকে ছাড়তে শুরু করেছে টিকেট। ঈদের আগ পর্যন্ত ঘরমুখো মানুষের জন্য আগে আসলে আগে পাবেন ভিত্তিতে টিকেট দেওয়া হচ্ছে স্টক থাকা পর্যন্ত। তবে এবারও সেই টিকেট না পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে যাত্রীদের।

লঞ্চ মালিকরা বলছেন, ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের জন্য স্পেশাল ট্রিপ সহ রয়েছে বাড়তি প্রস্তুতি। অপরদিকে ঈদে ঘরে ফেরা মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন এবং শান্তিপূর্ণ করতে যথাযথ প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে বিআইডব্লিউটিএ।

প্রতি বছর ধর্মীয় উৎসবে ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থানরত দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের বাড়ি ফেরার প্রধান ভরসা নৌপথ। দক্ষিণাঞ্চলের ৬ জেলা সহ মাদারীপুর, শরীয়তপুর, চাঁদপুর ও বাগেরহাট রুটে দিবা এবং নৈশকালীন সার্ভিসে সারা বছর চলাচল করে দেড় শতাধিক বড় ছোট লঞ্চ। এবারের ঈদে নতুন-পুরান মিলিয়ে দিবা ও নৈশ সার্ভিসে ২ শতাধিক লঞ্চ চলাচল করবে বলে জানিয়েছেন লঞ্চ মালিকরা।

নৌ পথের স্বর্গ হিসেবে পরিচিত বরিশাল-ঢাকা রুটের অত্যাধুনিক সুবিধা সংলবিত বিশাল বিশাল জাহাজগুলোই ঘরমুখো যাত্রীদের প্রধান আকর্ষণ। দিবা ও রাত্রীকালীন সার্ভিসে মানুষের ঘরে ফেরা শান্তিপূর্ণ করতে মালিকরা আগে থেকে নানা কথা বললেও সোনার হরিন নামের টিকেট পাচ্ছেন না যাত্রীরা। আবার অনেকে টিকেট পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেন।

অনেক ক্ষুব্ধ যাত্রী টিকেট কালোবাজারীর কথা বলেন। তাদের দাবি কাউন্টারগুলোতে টিকেট না পাওয়া গেলেও বরিশাল নদী বন্দরে অতিরিক্ত ৫শ’ থেকে ১ হাজার টাকা দিলে দালালদের কাছে পাওয়া যাচ্ছে কেবিনের টিকেট।

সুন্দরবন নেভিগেশনের বরিশাল অফিস ম্যানেজার মো. জাকির হোসেন মামুন বলেন, প্রকৃত যাত্রীদর হাতে টিকেট দিতে আগে থেকেই নানা ব্যবস্থা নিয়েছেন তারা। প্রয়োজনের তুলনায় কেবিন কম হওয়ায় কেউ কেউ কেবিন না পেয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন বলে দাবি করেন তিনি।

এমভি কীর্তনখোলা লঞ্চ কোম্পানীর ম্যানেজার মো. বেল্লাল হেসেন জানান, আগে আসলে আগে পাবেন ভিত্তিতে টিকেট ছাড়া হয়েছে। পরে এসে টিকেট না পেয়ে অনেকে ক্ষুব্ধ হতে পারেন।

লঞ্চ মালিক সমিতি কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি মো. সাইদুর রহমান রিন্টু বলেন, ঘরমুখো অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ সামলাতে ঈদের ৩দিন আগে থেকে ডবল ট্রিপের ব্যবস্থা করেছেন তারা।

বরিশাল বিআইডব্লিউটিএ’র নৌ নিরাপত্তা বিভাগের উপ-পরিচালক আজমল হুদা মিঠু বলেন, ঝড়-ঝঞ্চার মৌসুম হলেও যথাযথ সার্ভে সনদ এবং ফিটনেস নিয়েই এবারের ঈদে দিনে এবং রাতে বরিশাল-ঢাকা রুটে যাত্রী পরিবহন করবে অত্যাধুনিক ২৫টি জাহাজ। ফিটনেস এবং সনদ ছাড়া কোন নৌযান চলাচল করতে দেওয়া হবে না বলে জানান তিনি। এছাড়া অতিরিক্ত যাত্রী বহন রোধেও নানা পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেন তিনি।

বেসরকারি ও ব্যক্তি মালিকানাধীন ছাড়াও এবারের ঈদে ঢাকা-বরিশাল-মোড়লগঞ্জ রুটে রাষ্ট্রিয় নৌ পরিবহন সংস্থা বিআইডব্লিউটিসি’র ৬টি স্টিমার ও জাহাজ যাত্রী পরিবহন করবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে