অনুরণন (ধারাবাহিক গল্প) পর্ব – ৩

4
867

অনুরণন
সুজাতা দাস (কোলকাতা)
(ধারাবাহিক গল্প) পর্ব – ৩

অর্জুন যে লেখাপড়ায় খারাপ তা কিন্তু না,একরকমের মানুষ থাকে যাঁরা অবলীলায় মেয়েদের ব্যবহার করতে পারে অর্জুন হল ঠিক সেই প্রকৃতির,প্রথমে প্রেমের অভিনয় তারপর শারীরিক সম্পর্ক তারপর ছুড়ে ফেলা।
মোহরের ক্ষেত্রে সেটা করে উঠতে পারলে হয় তো এই সম্পর্কের ইতি ঘটতো বহু আগে কিন্তু মোহরের চারিত্রিক দৃঢ়তার কাছে হেরে গিয়ে পিছিয়ে পড়েছে অর্জুন বারবার ।
কয়েক বছরের সম্পর্ক হওয়া সত্বেও মোহরের তৈরি করা ব্যক্তিত্বের বেড়া টাকে টপকে মোহর পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেনি অর্জুনের লালসার হাত।
কেন যেন অর্জুনের সমস্ত নারী জাতির উপরেই রাগ এটা এখনও উদ্ধার করে উঠতে পারেনি মোহর।
অনেক বড়লোক বাড়ির ছেলে অর্জুন,সাবেকি পরিবারে মানুষ হওয়া সত্বেও অর্জুন যেন সম্পূর্ণ ভাবে আলাদা,মাঝে মাঝে মোহর কে ভাবায় এটা।
এরই মধ্যে যাদবপুর থেকে M.Tech complete করে শিবপুরে Professor হয়ে ঢুকলো চাকরি তে অর্জুন।
চাকরি পাওয়ার পরে এক দুর্গা পূজার অষ্টমীর দিনে মোহর কে নিয়ে গেল ওদের বাড়িতে ।
বনেদি বাড়ির পুজো কখনও দেখেনি মোহর,অর্জুনদের বাড়ি তে ঢুকে হকচকিয়ে গেল মোহর,পরিবারের প্রত্যেকেই যেন সোনায় মুড়ে আছেন।
এত জমক কখনো দেখেনি মোহর ,বাবা খুব ভালো চাকরি করেন ওদের কোনও অভাব নেই,কিন্তু অর্জুনদের কাছে কিছুই না।
এত কিছু দেখে অবাক হয়ে এদিক ওদিক দেখছিল;এরই মধ্যে অর্জুনের মা এলেন মা দুর্গার মতোই দেখতে,মোহর পায়ে হাত দিয়ে প্রনাম করল ওনাকে।
অর্জুন মায়ের মতোই দেখতে ,ভদ্রমহিলা হঠাত্ মোহরের হাত ধরে বললেন এই প্রথম অর্জুন কোনও মেয়ে বন্ধু কে বাড়িতে আনলো,তোমার সাথে কত দিনের পরিচয় মা?মোহর সত্যি কথাই বলল,
ভদ্রমহিলা খানিকক্ষণ তাকিয়ে থাকলেন মোহরের মুখের দিকে,ভালো করে দেখলেন মোহর কে;এ বাড়িতে প্রত্যেকেই সুন্দরী আর টোকা দিলে রক্ত ঝরবে গা থেকে এমনিই সবার গায়ের রঙ।
সেখানে এই শ্যামলা রং এর মেয়েটা কী ভাবে অর্জুনের মনের ভেতরে যায়গা করে নিল অবাক হয়ে ভাবতে থাকলেন।
তবে মুখটা খুব মিষ্টি ,মনে মনে বললেন।
এরই মধ্যে ঘরে অর্জুন ঢুকলো,সাথে কয়েক জন মেয়ে,পরিচয় করিয়ে দিলেন অর্জুনের মা সকলের সাথে;এদের মধ্যে মাধুরী বলে একটি মেয়েকে খুব ভালো লাগলো,সম্পর্কে অর্জুনের কেমন বোন হয়।
আসলে এতো জন ছিলেন মনে রাখা কষ্টকর হয়ে গেছে মোহরের পক্ষে।
এরপর একটু গল্প মাধুরীর সাথে ,তারপর একটু প্রসাদ খেয়ে বাড়ির পথে অর্জুনের সাথে।
কেমন লাগলো আমাদের বাড়ি?বলল অর্জুন
ও তো রাজ প্রাসাদ!! বাড়ি কোথায়?
কিন্তু আমি যা দেখলাম তাতে তো চাকরির প্রয়োজন নেই,তবে চাকরি কেন?বলল মোহর।
কারন বিয়ে করে আমরা অন্য জায়গায় থাকবো এখানে নয়;
আচমকা এই কথাতে থমকে গেল মোহর!!!! বিস্মিত চোখ নিয়ে তাকিয়ে রইল কিছুক্ষণ অর্জুন এর দিকে ;তারপর মোহর বলল কেন?
সব কেনর উওর হয় না মোহর ।
কিন্তু আমার জন্য বাড়ি ছাড়তে হলে আমাকে অন্য কিছু ভাবতে হবে বলল মোহর।
কেনও ?বলল অর্জুন।
কারন,আমার কারনে বাড়ির ছেলে বাড়ি ছাড়া হবে এটা আমি ভাবতে পারিনা।
ভাবতে হবে তোমাকে মোহর,তুমি নিজেকে তৈরী কর ;
কথা শেষ হবার আগেই অর্জুন মোহরদের বাড়ির দরজায় গাড়ি দাঁড় করিয়ে দিল,গাড়ি থেকে নেমে আসার মূহুর্তে একবার অর্জুনের দিকে তাকাল মোহর,তাকিয়ে থেকেই ভাবলো ও কি ঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে
ক্রমশ …………চলবে

আরো পড়ুন :
অনুরণন (ধারাবাহিক গল্প) পর্ব -১
অনুরণন (ধারাবাহিক গল্প) পর্ব -২

4 মন্তব্য

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে