কুড়িগ্রামে শীতে কাপছে, দেখা মিলছেনা সামর্থ্যবানদের

0
454

এজি লাভলু, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: শৈত্য প্রবাহ, ঘনকুয়াশা আর হিমেল বাতাসের কনকনে
শীতে কাঁপছে বাংলার উত্তর জনপদ কুড়িগ্রাম। ১৬ টি ছোটবড় নদ-নদী বেষ্টিত কুড়িগ্রাম
জেলার ৫২০ টি চর ও দ্বীপ চরাঞ্চলে প্রায় ৯০ ভাগ মানুষের বসবাস। দারিদ্রসীমার নীচে বসবাসরত
প্রায় ৭২% মানুষ এই শীতে বিপদে পরেছে সব থেকে বেশী। খড়া, বন্যা ও শীতে এই মানুষগুলো
বছরে তিন বার প্রকৃতির বিরুপ প্রভাবের সম্মুখীন হয়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। এই শীতে গত
চারদিন থেকে সূর্যের দেখা নাই, গত তিনদিন সর্বনিম্ন ৯ দশমিক ৮ ডিগ্রি ও ১০ দশমিক ৮
ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে গতকাল সকালে তাপমাত্রা ১২ ডিগ্রি পর্যন্ত রেকর্ড করা হলেও
বাস্তবে দুপুড়ের পর থেকে হিমেল বাতাস শিরশির করে হাতে পায়ে মুখে আঘাত হানার মত
অনুভুত হয়েছে। উপজেলা ও জেলা সরকারী হাসপতালে শীতজনিত রুগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে।
যার মধ্যে বয়স্ক নারী পুরুষ ও শিশুদের সংখ্যা বেশী। এমতাবস্থায় সরকারী বেসরকারী সাহায্য
সহযোগীতা কোথাও নজরে আসছেনা। এমনকি ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান পর্যায়ের শীতবস্ত্র খাদ্য
বিতরনের তথ্য বা সহযোগীতার ছবি ও সেলফিও কোথাও খুজে পাওয়া যাচ্ছে না।
বিগত বছরগুলোয় ব্যক্তি ও সংগঠনের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নিয়ে সরকারী সহযোগীতার পাশাপাশি
সামাজিক কর্মসূচির মাধ্যমে বিভিন্ন পেশাজীবী এবং ধনাঢ্য শ্রেনীর মানুষদের সংঘবদ্ধ করে
অতীতের যে কোন ধরনের দূর্যোগ মোকাবেলা করা হয়েছে। ইলেকট্রনিক অনলাইন মিডিয়া ও
শক্তিশালী মাধ্যম সোশ্যাল মিডিয়াতেও এ এ পর্যন্ত কোথাও হিমেল বাতাসের প্রকোপে অস্থীর
শীতার্ত পিড়ীত মানুষদের পাশে সহযোগীতার হাত বাড়ানো কোন কাউকে পাওয়া যাচ্ছে না।
তথ্যগত দিক থেকে এ প্রতিবেদকের মাধ্যমে জানা যায়, কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসকের বরাতে
৯টি উপজেলায় সরকারী বরাদ্দকৃত সর্বমোট ৫১ হাজার ৪শ ১৪ পিচ কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। যা
প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। উলিপুর উপজেলার হাতিয়া ইউনিয়নে মোট জনসংখ্যা প্রায় ৪৫
হাজার, ইউনিয়ন পরিষদ তথ্যমতে গরীব মানুষের সংখ্যা চরাঞ্চল সহ ৩০ হাজার, এর বিপরীতে সরকারী
বরাদ্দকৃত কম্বল মাত্র সাড়ে চারশত পিচ। নাগেশ্বরী উপজেলার একমাত্র চরাঞ্চল নারায়নপুর ইউনিয়নের
মোট জনসংখ্যা ইউপি তথ্যমতে প্রায় ৭০ হাজার, এর মধ্যে শতকরা ৭০ ভাগ মানুষ হতদরিদ্র,
কর্মহীন ও নদী ভাঙ্গনের শিকার তাদের বিপরীতে সরকারী বরাদ্দকৃত কম্বল মাত্র ৬০০ পিচ। বরাদ্দকৃত
কম্বল জেলার ৭২ টি ইউনিয়নেই উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের মাধ্যমে জনসংখ্যানুপাতে একই
নিয়মে ভাগ করে দেয়া হয়েছে।
ব্যক্তিগত ও বেসরকারীভাবে অতীতের ন্যায় উদ্যোগী মানুষদের তথা ধনি, ব্যবসায়ী শ্রেনী,
পেশাজীবী সংগঠন ও সামর্থ্যবান ব্যক্তি এবং জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দদের
ব্যক্তিগত তহবিল থেকে নিয়ে অসহায় শীতার্ত গরীবদের সহযোগীতায় এগিয়ে আসার বাস্তব
চিত্র এ পর্যন্ত খুবই হতাশাজনক বলে মন্তব্য করেছেন একাধিক প্রবীন গুনীজন ও মফস্বল
পর্যায়ে কর্মরত বিভিন্ন গণমাধ্যমের সংবাদকর্মীরা।
সেই সাথে তারা বিশেষভাবে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন, ঢাকা থেকে আগত ঢাকা কলেজ
এলামনাই এসোসিয়েশন ৯৬ এর ব্যাচ ও টিম নেতাদের এবং কুড়িগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার
মোহাম্মদ মহিবুল ইসলাম খান (বিপিএম) জেলা পুলিশের হয়ে ব্যক্তি উদ্যোগে এরকম একটি
মহতি কাজের সুচনা, তার বাস্তবায়ন ও এর ধারাবাহিকতা ধরে রাখার অদম্য সাহস, সৎ
মানসিকতা ও দৃঢ় মনোবলের উজ্জল দৃষ্টান্ত বলে সকলের দাবী। তারা এও আশাবাদ ব্যক্ত করেন ধীরে
হলেও পুলিশ সুপার্রেয়ঁড়ঃ; এক ব্যক্তি নুন্যতম এক কম্বল্য়ঁড়ঃ; এ আহবানে অনুপ্রাণিত হয়ে জেলার
অনেকেই বিশেষ করে তরুন যুবকরা এগিয়ে আসবেই।
গতকাল ২১ ডিসেম্বর কুড়িগ্রামে দলিত সম্প্রদায়ের মাঝে ৫০০ পিচ শীতবস্ত্র বিতরণ করেন
ঢাকা কলেজ এলামনাই এসোসিয়েশন ৯৬ ব্যাচ। গতকাল শনিবার (২১ ডিসেম্বর) দুপুর সাড়ে

১২টায় জেলা পুলিশ লাইন্স মাঠের প্যান্ডেলে এসব শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়। জেলা পুলিশ সুপার
মহিবুল ইসলাম খান বিপিএম গত ৫ দিন আগে পুলিশ সুপার, কুড়িগ্রাম পেজে বিভিন্ন
থানা ও এলাকা পরিদর্শন কালে জেলার বিভিন্ন গ্রাম ও নদী চরাঞ্চলে বসবাসরত মানুষদের বিশেষকরে
শিশু, বয়স্ক নারী পুরুষ ও হতদরিদ্রদের প্রচন্ড শীতে মানবেতর জীবনযাপন স্বচক্ষে দেখতে পেয়ে তাদের
সাহাযার্থে এগিয়ে আসার মানবিক আহবান জানান। সেই আহবানে সারা দিয়ে ঢাকা
কলেজের ৯৬ ব্যাচের সহপাঠী বন্ধুরা কুড়িগ্রামের হতদরিদ্র শীতার্ত মানুষদের পাশে
সহযোগীতার হাত বাড়ান।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে