অনুরণন (ধারাবাহিক গল্প) পর্ব -২

0
635
কবি-সুজাতা দাস

অনুরণন
সুজাতা দাস (কোলকাতা)
(ধারাবাহিক গল্প) পর্ব – ২

মোহর শুনতে পেল অর্জুন বলছে….
I love you …
Will you marry me?
অন্য একটা ভালো লাগার আবেশে ছুটতে ছুটতে এসে বসে পড়ল নিজের চেয়ারটিতে,তখনও বুকের মধ্যে একটা ঝড় বইছে।
এক ঘর ছাত্র ছাত্রীর মাঝে এই কথাটা বলায় মোহরের সাথে থাকা কয়েক জন ছাড়া প্রত্যেকেই হুররেএএএএএএ
করে চেঁচিয়ে উঠল।
প্রচন্ড চিৎকার আর হাসির ফোয়ারার মধ্যে মোহর আর ওর বন্ধুরা বেড়িয়ে এলো কলেজ থেকে,তখনও পিছন থেকে হাসির আওয়াজ পেল মোহর আর ওর বন্ধুরা।
হঠাত্ কেমন একটা জেদ্ কাজ করতে থাকে মোহরের মনের মধ্যে ,আর ঐ কারনেই আবার ঘুরে দাড়িয়ে পড়লো মোহর; আর চলতে থাকলো কলেজের ভিতরের দিকে।
মোহরের সাথে থাকা মোহরের চার বন্ধু তাকিয়ে রইল কিছুক্ষণ মোহরের ফিরে যাবার দিকে আর অস্ফুটে বলল কী ব্যপার?একজন আর একজনকে।
ওদের দেখা মোহর যেন পাল্টে গেছে কয়েক মিনিটের মধ্যে ,দ্রুততার সাথে এগিয়ে চলল মোহর অর্জুনের দিকে।
অর্জুনের হাসি মুখটাও আস্তে আস্তে পালটে যেতে থাকলো
মোহরকে দ্রুততার সাথে এগিয়ে আসতে দেখে।
আশে পাশের সবাই ও চুপ করে গেছে,একটা অশনি সংকেত যেন অনুভব করতে থাকলো সবাই মনে মনে।
প্রচন্ড একটা শক্ত ভাব নিয়ে মোহর গিয়ে দাঁড়ালো একদম অর্জুনের সামনে,অর্জুনের আশে পাশের সবাই অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে মোহরের দিকে।
হঠাত্ একটা হাত বাড়িয়ে দিল মোহর অর্জুনের দিকে আর মুখে বলল Yes I Will………….
পুরো হলটা স্তব্ধ হয়ে গেল কয়েক সেকেন্ডের জন্য,আর অর্জুনের চারিদিকের পরিমন্ডলিও উঠে দাঁড়িয়ে পড়লো কোনও কথা না বলে।
হঠাত্ মোহরের বন্ধুরা মোহর কে হাত ধরে টেনে বাইরে নিয়ে এলো আর বললো কী করছিস তুই জানিস?অর্জুনের মতো বাজে ছেলে আর একটাও নেই এই কলেজে আর তুই কিনা তাকে…………………
অর্জনের মহিলা প্রীতি যদি না ছাড়াতে পারি তো আমার নাম ও মোহর না দেখে নিস্ তোরা; কিন্তু দুর্ভাগ্য মোহরের, কোন পরিবর্তন ই করতে পারেনি অর্জুনের—-
আর বন্ধুদের দেওয়া কথাও রাখতে পারেনি মোহর।
কিছু কিছু মানুষ থাকে যাঁরা বাইরে টাকে বেশি প্রাধান্য দেয় ভেতরের feelings টাকে গুরুত্ব দেয় না;অর্জুন হলো সেই প্রকৃতির মানুষ যারা নারী শরীরের কামনা করে অন্তরের নয়।
বাড়ির কেউ ই এই সম্পর্ক টাকে মানতে পারেনি,প্রথমে বকাবকি তারপর অনুনয় বিনয় কিন্তু মোহর কে কেউ অর্জুনের থেকে সরাতে পারলো না।
মোহরের অবাধ্যতার জন্য সকলেই মোহরের থেকে দুরে সরে যেতে লাগলো,প্রয়োজন ছাড়া কেউ কথা বলতো না আর মোহরের সাথে।
এমন কী এই কারেন বন্ধু দের বলা পঞ্চপাণ্ডব এর বন্ধুর Group টাও ভেঙে গেল।
কীসের মোহে যে মোহর অর্জুনের দিকে ধনুক থেকে ছুড়ে দেওয়া তীরের মতো ছুটে চলল মোহর নিজেও উপলব্ধি করতে পারলো না।
কাল বোধহয় এভাবেই ছুটিয়ে নিয়ে চলে মানুষের অন্তর আর বাহির কে,এটাই ভবিতব্য যা মানুষের বোধের বাইরে থাকে;মোহরের ক্ষেত্রে ও তাই হল।
কিন্তু অর্জুনকে পাল্টানোর চক্করে আস্তে আস্তে কখন যেন একটু একটু করে ভালো বাসতে শুরু করলো মোহর নিজের অজান্তেই।
এরই মধ্যে M.S.C Complete করে ফেলল মোহর আর
পি এইচ ডি করতে যাদব পুরে ভর্তি হয়ে গেল………….

ক্রমশ …………….চলবে..

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে