এসপি শাহীনের এক গুচ্ছ কবিতা

0
1014
কবি - এসপি শাহীন, সভাপতি - সাহিত্যকথা পরিষদ

কই আমি?
এসপি শাহীন
সভাপতি – সাহিত্যকথা পরিষদ

আজ রাতে খুঁটি ছাড়া আকাশটা ভেংগে যখন
মাথায় পড়ছিলোএকটা গুড়ম করে বিকট আওয়াজ তুলে
ভয়ে চোখ বুজে আসেনি, অসহায় হয়ে তাকিয়ে দেখছিলাম
আকাশ মাথায় পড়ার আগেই বুকের প্রচন্ড কাঁপুনিতে
পা’য়ের তলার মাটি সরে যাাচ্ছিলো অনুভব করেছি
তখনো তাকিয়ে আছি, দু’হাত উপরে তুলে কেবল
একটা ডাক দিতে পেরেছিলাম —- হে আল্লাহ রক্ষা করো,
তারপর আর তাকিয়ে থাকতে পারিনি।
মনে হচ্ছিলো হৃদস্পন্দন বন্দ হয়ে যাচ্ছে ।
খালি হাত মুঠোকরে বুকে চেপে কেবল
দোয়ায়ে ইউনুস পড়তে পড়তে মনে হচ্ছিলো
আল্লার মতো বন্ধু কেউ নেই।
চোখের তারায় যখন অন্ধকার ,
পায়ের তলার মাটিও সরে যাচ্ছিলো
তখনও কিন্তু তরী চলছিলো ।হঠাৎ —–
তরীটা খাড়াভাবে যখন সাগর জলে ডুবে যাচ্ছে
তখন একলাফে মরুর বালুচরে কেবল একা আমি ।
তরীতে যে হাল ধরেছিলো কই যেনো হারিয়ে গেলো।
অসহায় আমি যখন ডাকতে যাবো তখনই
হাউমাউ করতে করতে দুঃস্বপ্ন থেকে বেরিয়ে এলাম।
ঘুম ভাংলো। মনে হয় সকাল, না ঘুমের ঘোরে ভুল বুঝতে পারছিনা।
বুঝতে পারছি প্রচন্ড ব্যথা করছে বুকে এখনো।

ঘুম ভাঙ্গিও খোদা আমাকে ভাংতেও দিয়োনা , মচকাতেও দিয়ো না।আমি তোমার রহম চাই—-

আগুনে ভরা ফাগুন
এসপি শাহীন
(মাত্রাবৃত্ত)

ফাগুন তো আগুন লাগায় ধরাময়
অনল-অনুতাপে বিষম জ্বালাময়
জোয়ান বুড়ো সবে প্রকৃতির সাথে
অসীমতার সাথে মৃদু বাতাসে মাতে
খোলা পবনে দুলে গানের গুঞ্জরনে
বিরহী নয়নের আলো শিমুল-বনে
বাহারী বসন্ত আসে—-ধরার বুকে
প্রিয়সী রাখে হাত খুশিতে মহা সুখে
ঝরা ফুল হারায় অবাক অভিমানে
মৌয়ের ঘ্রাণেতে ঝরে ফাগুন-টানে।
পলাশ শিমুলের রাশি রাশি বাহার
হৃদয় কেড়ে নেয়– দানা বাধে জ্বালার
যতবার ফাগুন আসবে এই ভবে
ভরারূপে এধরা তত পূর্ণ হবে।
.
চিরযৌবনার এবসন্ত রূপে
কত যে গল্পের জীবন দিলো সুঁপে
বিরহাতুর চোখ যায় দিগন্তে ভেসে
কোন ফাগুনই দেয়না ধরা কাছে এসে
নির্জীব পলক হয় যে জ্যোতিহীন
তোমাতেই রঙিন তোমাতেই বিলীন।
.
বুঝেছি ফাগুন শুধু “তুমি”তে আগুন।।

ভুলের মাসুল ভুলে হয়
এস পি শাহীন
(অক্ষরবৃত্ত)

তোর চোখেতে চোখ রাখিয়া বিশ্বটারে দেখিতাম
তোর বুকেতে বুক মিলিয়ে জলছবিটা আঁকিতাম।
মন আয়নায় রাখতাম ধরে ছোট বড় করিতাম
দেখতাম তোরে দু’চোখ ভরে কান পেতে শুনিতাম।
ছেড়ে গেছে অন্নদানা আর ছেড়েছে সুখের ঘুম
এই হারামী জ্বালিয়েছিস অন্তর পোড়ার ধুম।
জ্বালাইলিরে মনেতে আগুন, জ্বলে পুড়ে হই ছাই
হৃদয় পোড়া বিষণ জ্বালা তবু সহ্য করে যাই ।।

মন ভেজা স্বপ্নগুলো আজ নিরবধি আঁখিজলে
বৈশাখী বারিধারায় যেন পূর্ণ হয় সব ঢলে।
অপূর্ণতায় চৌচির সবই হোক না চৈতালি গগন
যশের বাতাস মানায় কি গায়ে যখন তখন?
ভুলের মাশুল ভুলে হয় মিছে কেন যে এত ভাবনা
স্বাধীন যে সে স্বাধীনতায় নিজের মতোই থাকনা ।।

দিলদরিয়ার চিঠি
এস পি শাহীন
(স্বরবৃত্ত অপূর্ণক)

আল্লা দিলে দরদ দিলো দোষ কি বলো আমার?
ভালোবেসে বিফল বার বার, বলো কি আছে করার?
ও বিধাতা দাওনা সাড়া বলে দাও একটি বার
ভালোবাসা হয় যদি ভুল,ভুল কি আমার একার?
ভুল করলে কেনো বিধাতা মন দিয়ে সবার?
বাসতে ভালো মন দিলে যে যতন করে বামে
ভুল কি হতো ভুলার জন্য দিলে রে মন ডানে
গেঁথে দিলে তারে মন মন্দিরে ভুলতে পারিনা
ভুলতে যদি হবে ভুলার মন কেনো দিলেনা?
ও বিধাতা তোর এতো বিধান কেনো পথ দেখায়না
ওবিধাতা অভোলা মন কত সইবে যন্ত্রণা
এমন করে থাকলো দূরে আমায় বুঝতে পারলোনা
দাও বলে,বলে দাওনা সে কেন্ আমার হলোনা ।।
.
এমন করে জ্বলে যদি যত্নে পুড়ায় দিল
মায়ার টান নাও উঠিয়ে বেদনায় করো নীল
সবই দেখো রঙের খেলা অন্ধ আমার বেলা
আঁধারেই বাঁধা থাকুক চাইনা আলোর মেলা
একলা জীবন করতে বরণ করছি আয়োজন
ও বিধাতা পোড়া সলতা হোকনা এ মন দহন
স্বপ্ন পুড়তে কষ্ট কিনতে আর কি প্রয়োজন?

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে