শেফালী খাতুনকে সন্তানদের সঙ্গে বসবাসের ব্যবস্থা করে দিলেন ইউএনও

0
173

পাবনা প্রতিনিধি:

মা শেফালী  খাতুনের দুই ছেলের ঘরে ঠাঁই হয়েছিল না চাটমোহর উপজেলার কাঁটাখালি গ্রামের ষাটোধ্বর্ধ বয়সি শেফালী খাতুন ও তার অসুস্থ স্বামী আবদুল আজিজের। বিয়ে করে ছেলেরা যে যার মতো সংসার গুছিয়ে নিয়ে পৃথক হয়েছিলেন অনেক আগে থেকেই। বাধ্য হয়ে শেষ বয়সে বৃদ্ধ শেফালী খাতুন নৌকায় নিজে মাঝি হয়ে মানুষ পারাপার করে অসুস্থ স্বামীকে নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন প্রতিনিয়ত। এই নিয়ে একটি সচিত্র সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পর অসহায় দুঃখী দম্পতির দায়িত্ব নিয়েছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার সরকার অসীম কুমার।
তবে শেফালী খাতুনের ইচ্ছা ছিল শেষ বয়সে ছেলে-বৌ, নাতী নাতনীদের সঙ্গে নিয়েই থাকতে চেয়ে ছিলেন তিনি। ইউএনও কে বিষয়টি জানালে তিনি আজ বুধবার দুপুরে শেফালী খাতুনের বাড়িতে গিয়ে শেফালী খাতুনের দুই ছেলে এবং বৌ’দের নিয়ে বসে সবাই কে বুঝিয়ে এক অন্নে এক পাত্রে একত্রে বসবাসের সু ব্যবস্থা করেদেন তিনি। বৃদ্ধ-বাবা-মায়ের ভরণ পোষণসহ একসঙ্গে একঅন্নে এক পাত্রে বসবাস করবেন বলে শেফালী খাতুনের দুই ছেলে ইউএনওকে আশ্বাস দেন। উভয়ের সকল কথা শোনার পর ইউএনও তাদের পাশে থাকার আশ্বাস প্রদান করেন। এ সময় গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
এরআগে গত ২৭ অক্টোবর ‘৬৯ বছরেও মাঝি শেফালী’ এমন শিরোনামে একটি সচিত্র সংবাদ প্রকাশ হলে ইউএনও সরকার অসীম কুমার উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে শেফালী খাতুনকে একটি বসতঘর, বাড়ির সামনে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাড়িতে একটি টিউবওয়েল বসিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেন।
ইউএনও সরকার অসীম কুমার বলেন, বাবা-মাকে সেবা করতে পারাও সন্তানের জন্য বড় ভাগ্যের ব্যাপার। আর প্রতিটি বাবা-মা চায় শেষ বয়সে অন্ততত তাদের সন্তান ও নাতী-নাতনীদের নিয়ে বসবাস করতে। দারিদ্রতার কারণে সংসারে নানা সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। কিন্তু বাবা-মাকে আলাদা করলেই সমস্যার সমাধান হয় না। শেফালী খাতুনের ছেলেরা আমাকে কথা দিয়েছেন বাবা-মাকে নিয়ে একসঙ্গে বসবাস করবেন। পরিবারটিকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব রকমের সহযোগিতা করা হবে বলে জানান ইউএন ও সরকার অসীম কুমার।

Leave a Reply