রোজায় ভালো নেই চাঁদপুরের বেদে পরিবারগুলো

0
971
ছবি সংগৃহীত

পবিত্র রমজান মাসে ভালো নেই চাঁদপুরের বেদে পরিবারগুলো। যারা বছরের বারো মাসই নদীতে মাছ শিকার করে কিংবা সিংগা লাগিয়ে অথবা বাড়িতে বাড়িতে থালাবাসন ফেরী করে জীবিকা নির্বাহ করে। তারা এখন পরিবার নিয়ে মানবেতর দিন কাটাচ্ছে । কারণ নদীতে মাছ নেই, রোজার মাসে অন্যান্য কাজও নেই। ফলে এ দূরাবস্থায় রোজার মাসে কেউ খোঁজও নেয় না তাদের। ডাকাতিয়া তীরে চৌধুরী ঘাট এলাকা ছাড়াও চাঁদপুর শহরের ৫নং খেয়া ঘাট, শেখের হাট, শাহতলী, রঘুনাথপুরসহ শহর ও তার বাইরে বহু বেদে পরিবার রয়েছে। তারাও একইভাবে অনেক কষ্টে দিনযাপন করছে। চাঁদপুর শহরের প্রেসক্লাব ঘাট ও ১০নং চৌধুরী ঘাটস্থ ডাকাতিয়া নদীর তীরে বেদে পল্লীতে গিয়ে দেখা যায়, বেদে পরিবারের অধিকাংশ সদস্যরাই কর্মহীনভাবে বসে আছে। তাদের রোজাগারের পথও বন্ধ।রোজা রাখা অবস্থায় সিংগা লাগানোর নিয়ম নেই বলে কেউই বেদে নারীদের কাছে সিংগা লাগায়নি এবং রোদ ও বৃষ্টির দিনে থালাবাসন ফেরী করতেও পারছে না। অন্যদিকে নদীতে তেমন মাছ ধরা পড়ছে না, পুরুষদের অর্থ উর্পাজনের আর কোন পথ খোলা নেই। তবুও রোজা রাখতে হচ্ছে। কিন্তু কেমন কাটছে তাদের এই রোজার মাস, সে খবর কেউ রাখছে না। তাদের ভরসা আল্লাহ। প্রতিদিন বর্তা, শাক, লতা পাতা দিয়ে তরকারি রান্না করে সেহরী খেয়ে কোন রকম রোজা পালন করছে তারা। চাঁদপুর ১০নং ও ৫নং ঘাট এই দুই স্থানের বেদে পরিবারদের সর্দার আবদুল মালেক সরদার জানান, শহরের এ দুই স্থানে ২শ’ ৭০জন বেদে পরিবার রয়েছে। তারা এখানে থাকছে শত বছরেরও বেশি সময় ধরে। কিন্তু সরকারিভাবে তাদেরকে কোন সাহায্য সহযোগিতা না করা হলেও ঈদসহ ধর্মীয় বিভিন্ন উৎসবে চাঁদপুর পৌরসভার মেয়র তাদেরকে বিভিন্ন সাহায্য সহযোগিতা করেন। এছাড়াও বেদে পরিবারের ৮০জন জেলে কার্ডপ্রাপ্তরা চাল পেয়ে থাকেন। বেদে জমিলা খাতুন জানান, আমরা গরীব মানুষ, বেইন রাইতে বর্তা আর হাগ সবজি দিয়া ভাত খাই। বিয়াল বেলা পানি আর চাইরডা মুড়ি দিয়া ইপতার করি। আমরা মাছ গোছ এগুলা কই পামু বাবা। কোরফুন্নেছা মনি ও শাহনাজ বেগম জানান, রোজার মাসে আমরা তেমন ভালো নেই। রমজান মাসে রোজা রাইকখা সিংগা নিতে চায়না। তাছাড়া বৃষ্টি ও প্রচন্ড রোদের কারনে আমরা থালাবাসনও ফেরী কইরা বেছতে পারিনা। আর বেছতে গেলেও মানুষজন তা কিনতে চায়না। নদীতে তেমন মাছ ধরা পড়ছে না, এজন্য আমাদের আয় উর্পাজন নেই। অনেক কষ্ট করে আমাদের সংসার চলে। চাঁদপুরের জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় সরকার এসব বেদে পরিবারদেরকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিবে- এমনটাই প্রত্যাশা বেদে পরিবারগুলোর।

সূত্র: দৈনিক চাঁদপুর দর্পণ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে