পা দিয়ে লিখেই কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার হতে চায় মানিক রহমান

0
616

এজি লাভলু, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: হাত না থাকার পরও স্বপ্ন পূরণের
স্পৃহা থেমে নেই। পা দিয়ে লিখেই কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার
স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন অদম্য মেধাবী মানিক রহমান। মানিক
রহমান ওষুধ ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান ময়নার ছেলে। ফুলবাড়ী জছিমিঞা
মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জেএসসি পরীক্ষায় ফুলবাড়ী বালিকা
পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় পরীক্ষা কেন্দ্রের ৬ নম্বর কক্ষে একটি টেবিলের উপর
বসে শুধুমাত্র ডান পা দিয়ে পরীক্ষার খাতায় লিখে পরীক্ষা দিচ্ছেন। তার রোল
নম্বর-৬১৮০১৩।
মানিক রহমান পা দিয়ে লিখলেও লেখা ঝকঝকে ও হাতের লেখার চেয়ে অনেক
ভালো। তার পায়ের লেখা দেখে অনেকে চমকে যাচ্ছেন। অনেকে বলছেন,
সৃষ্টিকর্তা তার হাত না দিলেও পায়ের শক্তি দিয়েছে।
ফুলবাড়ী বালিকা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় পরীক্ষা কেন্দ্রের সচিব ও ওই
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কানাই চন্দ্র সেন জানান, প্রতিবন্ধী মানিক
রহমান একজন মেধাবী শিক্ষার্থী। তার হাত না থাকলেও পা দিয়ে পরীক্ষার
খাতায় পূর্ণ মার্কের পরীক্ষা দিচ্ছে সে। বোর্ডের সিদ্ধান্তে পরীক্ষায়
লেখার জন্য ৩০ মিনিট বেশি সময় দিচ্ছি।
ফুলবাড়ী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার সাইফুল ইসলাম জানান,
মানিক রহমানের পা দিয়ে জেএসসি পরীক্ষার খাতার লেখা দেখে তিনি
অভিভূত হয়েছেন। তার পা দিয়ে ঝকঝকে সুন্দর লেখা স্বাভাবিক হাতের
লেখার চেয়েও ভালো। পরিক্ষায় গোল্ডেন জিপিএ ও মেধা তালিকায় তার নাম
থাকবে।
মানিকের বাবা মিজানুর রহমান ময়না জানান, আমার প্রতিবন্ধী ছেলে
মানিক কষ্ট করে পা দিয়ে পরীক্ষায় খাতায় লিখে জিপিএ-৫ অর্জন করে
আমাদের বুক আনন্দে ভরে দিয়েছে। মানিক পঞ্চম শ্রেনীতে ট্যালেন্টপুলে
বৃত্তি পেয়েছে। ৮ম শ্রেনীতেও বৃত্তি পাবে আশা করছি। মানিকের
কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন পূরণে কিস্তিতে একটি ল্যাপটপ
কিনে দিয়েছেন। এই ল্যাপটপ দিয়ে সে প্রাক্টিস করছে। মানিকের
কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার স্বপ্নপূরণে তিনি দেশবাসীর কাছে দোয়া ও
সহযোগিতা কামনা করেন।
মানিকের মা সহকারী অধ্যাপক মরিয়ম বেগম জানান, মানিক রহমানের
জন্ম থেকেই দুই হাত ছিলনা। তার ডান পায়ের চেয়ে বাম পা টিজন্ম
থেকেই ছোট। জন্মের সময় থেকে তার ঠোঁট ও তালুকাটা থাকলে ওপরে
ঠোঁট ও তালু অপারেশন করে কাটা অংশটি ভালো করা সম্ভব হয়।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে