দুই ভাইকে হারিয়ে এখনও ষড়যন্ত্রের শিকার যুবলীগ নেতা এসরাল

0
686

নিজস্ব প্রতিবেদক :

দুই ভাই হারিয়ে সক্রিয় ভাবে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করেও বার বার ষড়যন্ত্রের শিকার মহানগর যুবলীগ নেতা এসরারুল হক এসরাল। দলের জন্য নিবেদিত প্রাণ এ আওয়ামী কর্মী বার বার হয়েছেন ভুল সংবাদের শিরোনাম। থানা বা আদালতে কোন মামলা না থাকলেও বার বার তাকে জড়ানো হয়েছে মিথ্যা মামলায়। প্রচার করা হয়েছে ভিত্তিহীন সংবাদ। মূলত এসরালের প্রতিপক্ষরাই তার রাজনৈতিক সুনাম নষ্ট করার জন্য বিভিন্ন ভুঁইফোড় পত্রিকা ও অনলাইন পোর্টালে এসব সংবাদ করিয়েছেন।
জানা যায় ১৯৯৭ সালের ২৬ ডিসেম্বর চট্টগ্রামে চান্দগাঁও আবাসিক এলাকায় বিএনপি ও ছাত্র শিবিরের চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা ব্রাশ ফায়ার করে নির্মমভাবে হত্যা করে ওমর গণি এম.ই.এস. বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক ছাত্র মিলনায়তন সম্পাদক শহীদ এনামুল হক, কলেজ ছাত্রলীগ নেতা আবুল মনছুর ও চান্দগাঁও ছাত্রলীগ নেতা শহীদুল আলম খানকে। এনামুল হক ছিলেন এসরারুল হকের আপন বড় ভাই। মূলত এনামের মৃত্যুর পরই রাজনীতিতে আসেন এসরাল।
আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালীন বড় ভাই এনামুল হক এনামকে হারিয়েছেন। এনাম ওমর গনি এম ই এস কলেজ এর ছাত্র মিলনায়তন সম্পাদক ছিলেন।জামাত-শিবিরের ব্রাশফায়ার এ নিহত হন এনাম। এনাম মারা যাওয়ার পরে ছাত্রলীগ এবং যুবলীগের উপর জামাত-শিবিরের হামলা নির্যাতন শুরু হয়। কয়েক বছর পরই হারান আরেক চাচাত ভাই মহিমউদ্দিনকে। মহিমও ওমরগণি এম ই এস কলেজের নেতা ছিলেন। পুলিশের ক্রসফায়ারে নিহত হন মহিম। তবে তরুণ বয়স থেকেই নগর ছাত্রলীগের সাথে এবং তার বড় ভাই শহীদ ছাত্রনেতা মহিম ও এনামের সাথে বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে ছিলেন এসরাল। ২০০৭ সালে ১/১১ এর সেনা সমর্থিত সরকারের সময় দলের দুঃসময়ে যখন অনেক নেতা দেশ ত্যাগ করে তখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে গ্রেফতারের পর তাঁর মুক্তির জন্য রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রামে নামে এসরাল। এর ফলে গ্রেফতারও হয় এসরারুল হক এসরাল।
এদিকে, এসরালের নামে থানায় বা আদালতে কোন মামলা না থাকলেও কিছু ভুঁইফোড় পত্রিকা ও অনলাইন পোর্টালে তাকে চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী ইত্যাদি আখ্যা দিয়ে মুখরোচক সংবাদ প্রকাশ করা হয়। এমনকি তার নাম বিকৃত করে ‘আজরাইল’ বলে সংবাদ প্রকাশিত হয়। যেটি মূল ধারার সংবাদ প্রকাশের পরিপন্থী।
১৯৯৮ সালে চান্দগাঁওয়ের শীর্ষ সন্ত্রাসী আজিজুল হক জাবেদ
একটি ডাকাতির ঘটনায় দুটি অস্ত্র, এগারো রাউন্ড গুলি ও লুট করা স্বর্ণালঙ্কারসহ গ্রেফতার হয়। চান্দগাঁও থানায় মামলা [০১(৪)৯৮] হয়। এরপর জামিনে বেরিয়ে ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুলের এক ছাত্রীকে অপহরণের সময় চন্দনাইশ থানায় অস্ত্রসহ ফের গ্রেফতার হয় জাবেদ। এছাড়া চান্দগাঁওয়ের পেপসি কোম্পানির ম্যানেজারকেও অপহরণ করে জাবেদ। তবে কিছু সংবাদ মাধ্যমে এ মামলার আসামির নাম পরিবর্তন করে এসরালের নাম বসিয়ে দেয়া হয়। এসব মামলার আসামি আজিজুল হক জাবেদ বর্তমানে ভোটার আইডি কার্ডে নাম পরিবর্তন করে সাফায়েত হক জাবেদ হয়ে গেছে। ফলে পুলিশও তাকে ধরতে পারছে না।
এসরালের বিষয়ে থানায় কোন মামলা আছে কিনা জানতে চাইলে চান্দগাঁও থানার বিদায়ী ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল কালাম বলেন, আমি ওসি থাকাকালীন তার বিরুদ্ধে কোন মামলা পাইনি। এছাড়া তার বিরুদ্ধে কোন চাঁদাবাজি কিংবা সন্ত্রাসের মামলাও আসেনি।
এসরারুল হক এসরাল ও নিহত ছাত্রলীগ নেতা এনামুল হকের বাবা মোহাম্মদ ইউসুফ কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার বড় ছেলেকে এভাবে হারাতে হবে আমাদের ধারণা ছিল না। যদি বুঝতে পেতাম তবে লুকিয়ে রাখতাম। প্রধানমন্ত্রী সে সময় আমাদের সাথে ফোনে যোগাযোগ করলেও দেখা করার সুযোগ হয় নি। আজকের সময়ে যেখানে আবরার ফাহাদ খুনের ৭ দিনের মাথায় নেত্রীর সাক্ষাৎ পায়, আর আমরা সন্তান হারানোর ২১ বছরেও সে সুযোগ পাই নি।
তিনি বলেন, এখন আমার ছোট ছেলে এসরালের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় লেখালেখি শুরু হয়েছে। আমার ছেলেকে আর আমাদের পরিবারকে সামাজিকভাবে হেয়-প্রতিপন্ন করার জন্য এসব করা হচ্ছে।
জানতে চাইলে এসরারুল হক এসরাল বলেন, আমি কখনো চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস এসব কাজে জড়িত ছিলাম না। বঙ্গবন্ধুর আদর্শে সবসময় রাজনীতি করে গেছি। রাজনীতি করতে গিয়ে আমার দুই ভাই শহীদ হয়েছে। এখনও আমাদের পরিবার ত্যাগ করে যাচ্ছে দলের জন্য।
তিনি বলেন, বিভিন্ন পত্রিকা ও অনলাইন পোর্টালে আমাকে নিয়ে কিছু মিথ্যা সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। মূলত আমি আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে চান্দগাঁও ওয়ার্ড থেকে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিচ্ছি। এজন্যই আমার প্রতিপক্ষরা আমার নামে এসব বানোয়াট ও ভিত্তিহীন সংবাদ প্রকাশ করছে। এগুলো তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে