এই প্রাণের ক্যাম্পাসের প্রতিটি ধূলিকণাকেও মিস করবো

0
702

এই প্রাণের ক্যাম্পাসের প্রতিটি ধূলিকণাকেও মিস করবো
আলহামদুলিল্লাহ। মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে হাজারো শুকরিয়া। জীবনের
আরেক ধাপ অতিক্রম করলাম। গতকাল ছিল অনার্স লাইফের শেষ ভাইভা। জীবনে
প্রথমবার এতটাই নার্ভাস ছিলাম। ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ভাইভা তারিখ। বড়
ভাইয়ের দেওয়া সদ্য তৈরি করা একটি প্যান্ট আর একটি সাদা ঝকঝকে শার্ট
লন্ড্রি থেকে এনে রাখলাম। রাত ২টা পযর্ন্ত আমার থিসিসের সুপারভাইজারের
ট্রিটমেন্ট, ৭ টায় ঘুম থেকে উঠলাম। রুমমেটের যাতে ঘুম না ভাঙ্গে সে
জন্য আস্তে আস্তে হালকা আলোতে পোশাক পরে নিলাম।
সকাল ১০ টার অনেক আগেই পৌঁছে গেলাম ক্যাম্পাসে, ৯.১৫ টার দিকে
ক্যাম্পাসে পৌঁছালাম। ক্যাম্পাসে ঢুকতেই সবাই আমাকে কেন যেন
ঘিরে ধরল, আমার জন্য একটা নিউজ আছে। নিউজটাকে আগে দিবে এটা
নিয়ে কাজী জোবের আর আসিফ সাঈদের মধ্যে জিতা জিতি চলছে, পরে
সাঈদ বলল, ‘তোর জন্য একটা শোক সংবাদ আছে। ভাইভাতে নাম ডাকবে
বর্ণমালা (লেটার) অনুযায়ী। তোর নাম এক নাম্বারে।’
(আবু মাসউদ) (আমার সার্টিফিকেট নাম)। মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ল, পরে
অভিজ্ঞতা নেওয়া যায়। কি করব, কি বলতে কি বলব কিছুই বুঝতে পারছিলাম
না। টেনশনের অবসান হলো নজরুল (অফিস সহকারী) ভাইয়ের সাথে দেখা
হওয়ার পর। বলল, ভাই, এই লিস্ট অনুযায়ী ভাইভাতে ডাকবে। আপনি লাকী সেভেন (
৭+৭) ১৪ নাম্বারে। এবার একটু স্বস্তি পেলাম। পুনরায় স্বস্তির নিশ্বাস ফেললাম
ইতি আপুর কাছে গিয়ে।
ভাইভা বোর্ডে।
আমাদের সবার বাবা, গুরু, প্রিয় জন স্যার জন সাফিন (ইংরেজি বিভাগের
সম্মানিত চেয়ারম্যান), আমার খুবই কাছের, প্রিয় একজন মানুষ শিমুল
ম্যাম শিমুল ভট্টাচার্য (আমার ব্যাচমেটরা আমার দিদি বলে ডাকে, একই
কলেজ মহসিনিয়ান ছিলাম বলে) এবং শারাফাত উল্লাহ স্যার।
টেনশনের শেষ নেই, শুধু গাম দিচ্ছে আর টেনশন হচ্ছে। যতই পড়ছি ততই ভুলে
যাচ্ছি। আমার থিসিসের সম্মানিত সুপারভাইজার আরাফাত ম্যাম
মাশাল্লাহ যথেষ্ট উৎসাহ, উদ্দীপনা, সাহস দিয়েছেন।
তবুও টেনশনের শেষ নেই..
‘টেনশন নেবে টেনশন
হরেক রকম টেনশন আছে

টেনশন নেবে টেনশন
লাল টেনশন নীল টেনশন কাঁচা হলুদ রঙের টেনশন।
যতই পড়ছি ততই ভুলছি। এরকম একটা মনস্তাত্ত্বিক খেলা আমার মনে চলতে
লাগলো। কেউ ভাইভা দিয়ে বের হলে সবাই মিলে তাকে ঘিরে ধরে। ‘এই কি
কি আস্কড করল।’
অবশেষে সিরিয়াল নাম্বার ১৪। অনেক বেশি নার্ভাসনেস নিয়ে টিচার্স
রুমে প্রবেশ করলাম আর এসিতে ঘামতে ছিলাম।
জন স্যার: হাউ আর ইউ ডিয়ার?
আমিঃ আলহামদুলিল্লাহ।


…………………………..
শিমুল ম্যামের দেখি তাকাতেই, ম্যামের সেই দিক বিজয়ী হাসি। বাকিটা
ইতিহাস……। জীবনের এতদূর আসার পিছনে আমার বাবা-মা, ভাই বোনদের
কাছেই চির কৃতজ্ঞ থাকব; যারা না হলে কখনো আমার এতদূর আসা সম্ভব
ছিল না।
সর্বশেষ আমার সাউদার্ন ক্যাম্পাস আমাকে এতটাই ভালোবাসা দিয়েছে,
যা কখনো ভুলতে পারব না। ভাগ্যবান না হলে আমার ইংরেজি বিভাগের মত
শিক্ষক পাওয়া যায় না। আপনারই আমার ২য় মা-বাবা। আমার ব্যাচমেট,
ভালোবাসার ৩৬ ব্যাচ।
শেষ বয়সে এসে তোদেরই মনে থাকবে, তোমাদের সাথে তুলা ছবিগুলো দেখে
বাকিটা জীবনটা হইতো কাটাব, অনেক ভালোবাসি রে… তোদের।
অবশেষে
আমার ডিপার্টমেন্টের সিনিয়র-জুনিয়র, ইউভার্সিটির সকল
ডিপার্টমেন্টের শিক্ষার্থী-শিক্ষক কর্মকর্তা-কর্মচারী কাছে কৃতজ্ঞ
থাকব চারটা বছর আপনাদের ভালোবাসা পেয়েছি। আমাদের ক্যাম্পাসটা খুব
বেশি বড় না, আবার একেবারে ছোটোও না। আমার কাছে ৫/৭ একরের এ
সাজানো-গোছানো ক্যাম্পাস একটি পরিবারের মতো। পড়াশোনার শেষে
এই পরিবার ছাড়তে হবে। ভাবতেই বিষন্নতা গ্রাস করে। প্রিয় ক্যাম্পাস
ছাড়া নিজেকে কল্পনাও করতে পারি না, যখন চলে যাব। এই প্রাণের ক্যাম্পাসের
প্রতিটি ধূলিকণাকেও মিস করবো।
মাসউদ আহমেদ
ইংরেজি বিভাগ, অনার্স চতুর্থ বর্ষ।
সাউদার্ন ইউভার্সিটি বাংলাদেশ।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে