রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জনই ছিল বঙ্গবন্ধুর দর্শন : স্পিকার

0
736

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এমপি বলেছেন, বাঙালির মহাজাগরণের পথিকৃৎ ছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বাঙালি জাতির বৈষম্য ও বঞ্চনার ইতিহাস গভীরভাবে অনুভব করতে পেরে তিনি আজীবন তাদের মুক্তির জন্য লড়াই সংগ্রাম করে গেছেন। তিনি অন্যায়ের কাছে কখনো মাথা নত করেননি। মামলা-জেল-জুলুম ও মৃত্যুভয় তাঁকে লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি। ফাঁসির মঞ্চে গিয়েও তিনি আপোষ করেননি। জনগণের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জনই ছিল বঙ্গবন্ধুর সংগ্রামী জীবনের একমাত্র দর্শন। বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ অর্থনৈতিক ও সামাজিক সকল সূচকে উন্নয়নের রোল মডেল। 

এ সময় তিনি বঙ্গবন্ধুর আদর্শ, দেশপ্রেম ও সাহসিকতার ইতিহাস প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানান। 

সংসদ ভবনে সোমবার প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের সামনে (৩য় তলায়) জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৪তম শাহাদাত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস-২০১৯ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয় এ সভার আয়োজন করে।

এতে বক্তব্য রাখেন সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি তোফায়েল আহমেদ, সংসদের ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়া, হুইপ ইকবালুর রহিম, হুইপ আতিউর রহমান আতিক।

সভায় সভাপতিত্ব করেন সিনিয়র সচিব ড. জাফর আহমেদ খান। সঞ্চালন করেন সংসদ সচিবালয়ের উপসচিব (আইন) মো. তারিক মাহমুদ ও উপ-পরিচালক সামিয়া রুবায়েত হোসেইন।

ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু গভীরভাবে এদেশের মানুষকে ভালবাসতেন। তিনি বিশ্বাস করতেন জনগণকে পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করতে না পারলে অধিকার প্রতিষ্ঠা কিংবা উন্নয়ন কিছুই সম্ভব নয়। তাইতো ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণে এক অঙ্গুলি হেলনে দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলেন। তার এই ভাষণ অমর অক্ষয়। বঙ্গবন্ধুর এ ভাষণ কবি গুরুর ১৪০০ সাল কবিতার মতোই শত শত বছর পরেও প্রতিধ্বনিত হবে। এ সময় তিনি সংসদ সচিবালয়ের কর্মচারীদের স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের সঠিক ইতিহাস জানার আহবান জানান।

আওয়ামী লীগের বর্ষিয়ান নেতা তোফায়েল আহমেদ বলেন, বঙ্গবন্ধুর মতো বিচক্ষণ নেতা বিশ্বে খুবই কম এসেছে। যিনি কখনোই অন্যায়ের কাছে মাথানত করেননি। যে কারণে গণমানুষের অধিকার আদায়ের জন্য নেলসন ম্যান্ডেলার মতো তাকেও বছরের পর বছর জেলখানায় কাটাতে হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারণ করে দেশগড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

সভা শেষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারবর্গসহ সকল শহীদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

সভার শুরুতে সকল শহীদের স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয় এবং বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্মের উপর নির্মিত ‘বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ’ শীর্ষক একটি প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শন করা হয়। সভায় কবিতা আবৃতি করেন সংসদ সচিবালয়ের উপসচিব এস এম মঞ্জুর এবং শোক সংগীত পরিবেশন করেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির শিশু শিল্পীরা।

সূত্র- বিডি প্রতিদিন

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে