চলে গেল,চাটমোহরের এক অসহায় মানুষ “গফুরণ”

0
662

তোফাজ্জল হোসেন বাবু:পাবনার চাটমোহরে প্রতিদিন সকালে রাস্তাঘাটে, বাজারে,যাওয়ার পথে প্রায়ই দেখা হতো একজন অসহায় গরীব দুখি দরিদ্র মানুষের, তার নাম গফুরণ নেছা ওরফে গফি( ৪০)।তবে এলাকার মানুষ তাকে গফি বলেই চিনতো।পাবনার চাটমোহর থানার বিলচলন ইউনিয়নের
বোঁথর গ্রামের মৃত খবির উদ্দীনের মানুষিক, শারিরীক ও বাক প্রতিবন্ধী মেয়ে গফি।

ছোটবেলা থেকে বাবা মাকে হারিয়ে অসহায় জীবন যাপন করতো গফি। হত দরিদ্র দিনজমুর যার যত সামান্য তম আয়ের সংসারে ঠাই হয়েছিল আজিজলের কাছে অসহায় মেয়েটির। বাড়ি ঘর বলতে এর সংসাররূপেই থাকতো সে। ভিক্ষাই ছিল গফির বেঁচে থাকা ও জীবিকা নির্বাহের একমাত্র অবলম্বন।মূলত প্রতিদিনই পৌর সদরের আনাচে কানাচে বা এ গলি ও গলির কোন না কোন রাস্তায় দেখা মিলতো গফির সঙ্গে।ঝর বৃষ্টির সাথে পাল্লা দিয়ে রাস্তায় রাস্তায় বসে হামাগুরি দিয়ে গড়িয়ে গড়িয়ে একটু মৃদু হাসি মাখা মুখে বাঁকা হাতে প্লেট বাড়িয়ে বোবার কন্ঠে ভিক্ষে চাইতো সে। ভিক্ষে চাইতো দোকানে দোকানে না দিলেও রাগ করতো না গফি। হাসি মাখা হাস্য উজ্জল মুখে আবার গড়িয়ে গড়িয়ে যেত আর একটি দোকানে ভিক্ষের আশায়। চাটমোহর সমাজ সেবা অফিস থেকে তাকে একটি হুইল চেয়ার দেয়া হয়েছিল অনেক আগেই। কিন্তুু কে টানবে এই হুইল চেয়ার? এই প্রশ্নটি হয়তো ছিল গফির মনে কথা বলতে না পারলেও ডুকরে ডুকরে আহাকার বোধ করতো তার বুকের পাজরে, পাজর ছিন্ন ভিন্ন হয়ে যেত তার দেহের মাঝে। কিছুূদিন হলো নানা অনিয়মে অনেক রোগের বাসা বেধেছিল তার শরীরে। শোকে আক্রান্ত কান্না মুখরিত চোখে পানি টল মল হয়ে গফি অসুস্হ হয়ে পড়েছে। সমাজে অনেক বৃত্তবান থাকলেও কেউ খোজ নেয়নি গফির।
আজ বৃহস্পতিবার ২২ জুলাই সকাল সাড়ে নয়টার দিকে বাজারি যাচ্ছি। ঠিক তখনি একজন দৌড়ে এসে বললেন,”ভাই আপনি প্রায়ই যার ছবি তুলতেন,সেই গফি আজ সকাল আটটায় মারা গেছে। সঙ্গে সঙ্গে ইন্না লিল্লাহি অ ইন্না ইলাইহি রাজেউন” পড়তেই বুকের মধ্যে খচ করে নরে উঠলো।
আজকের পড়ে আর কোন দিন হয়তো বা গফির ছবি তুলতে পারবো না, আবার কোন দিন দেখাও হবে না।গফি আর কারও কাছে কোন দিন বাকা মুখে হাসি দিয়ে ভাঙ্গা ভাঙ্গা হাতে প্লেট বাড়িয়ে বোবা কন্ঠে বলবে না অ্যা….অ্যা… অ্যা…।
আমরা সবাই গফির বিদেহী আত্মার শান্তির জন্য দোয়া করি আমিন

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে