চট্টগ্রামে জন্মাষ্টমী শোভাযাত্রায় লাখো মানুষের ঢল II TARUNNO BD 24

0
649

ফুয়াদ মোহাম্মদ সবুজ, সিনিয়র রিপোর্টারঃ শ্রীশ্রী জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ-বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির সার্বিক তত্ত্বাবধানে জাতীয়ভাবে আয়োজিত শোভাযাত্রা কয়েক লক্ষ মানুষের অংশগ্রহণে এক বর্ণাঢ্য মহাশোভাযাত্রায় পরিণত হয়। বিভিন্ন সাজে সজ্জিত হয়ে নেচে-গেয়ে বাদ্য বাজনা বাজিয়ে মহাশোভাযাত্রা এক অপরূপ দৃশ্যে পরিণত হয়। শিশু, মহিলা, বৃদ্ধ থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সের মানুষের সরব অংশগ্রহণে এক নবরূপ ধারন করে। শোভাযাত্রা দেখে মনে হয়েছে যেন কৃষ্ণ প্রেমের এক অদৃশ্য টানে ছুটে চলেছে তারা শেকড়ের সন্ধানে। ফেস্টুন ও ব্যানার সহকারে মহাশোভাযাত্রায় অংশ নেন সনাতনী সম্প্রদায়ের বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠন ও মঠ-মন্দিরের নেতৃবৃন্দ।

শুক্রবার (২৩ আগস্ট) সকাল ১০টায় নগরীর আন্দরকিল্লা চত্বরে আয়োজিত মহাশোভাযাত্রার আহবায়ক অলক দাশের সভাপতিত্বে এতে আশীর্বাদক ছিলেন ঋষিধাম অধিপতি ও তুলসীধামের মোহন্ত মহারাজ শ্রীমৎ স্বামী সুদর্শনানন্দ পুরী মহারাজ। বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে মহাশোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন চট্টগ্রামস্থ ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনার অনিন্দ্য ব্যানার্জী।

এতে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। বিশেষ অতিথি ছিলেন সিএমপি কমিশনার মো. মাহাবুবর রহমান, দৈনিক ভোরের কাগজ সম্পাদক শ্যামল দত্ত, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, ঢাকা দক্ষিণ সিলেটের মহাপ্রভু শ্রীঅঙ্গনের অধ্যক্ষ শ্রীল রাধাবিনোদ মিশ্রজী মহারাজ, পরিষদের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও রাউজান পৌরসভার মেয়র দেবাশীষ পালিত, পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা গৌরাঙ্গ দে, সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. চন্দন তালুকদার, অ্যাড. তপন কান্তি দাশ, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক বিমল কান্তি দে, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টী রাখাল দাশগুপ্ত, চসিক প্যানেল মেয়র চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী।

মহাশোভাযাত্রা উপ-পরিষদের সদস্য সচিব লায়ন আশীষ ভট্টাচার্য্যরে সঞ্চালনায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন পরিষদ নেতা ডা. মনোতোষ ধর, সাধন ধর, লায়ন দুলাল চন্দ্র দে, চন্দন দাশ, মাইকেল দে, পরেশ চন্দ্র চৌধুরী, লায়ন তপন কান্তি দাশ, প্রকৌশলী আশুতোষ দাশ, চন্দন দে, লায়ন শংকর সেনগুপ্ত, রবি শংকর আচার্য্য, ডা. বিধান মিত্র, সাধন চৌধুরী, বিপ্লব চৌধুরী, উৎসব কমিটির আহবায়ক বাবুল ঘোষ বাবুন, যুগ্ম আহবায়ক নির্মল কান্তি দাশ, ঝুন্টু চৌধুরী, গৌতম পালিত টিকলু, সদস্য সচিব রত্নাকর দাশ টুনু, কাউন্সিলর শৈবাল দাশ সুমন, হাসান মুরাদ বিপ্লব, নিলু নাগ, রতন আচার্য্য, আশীষ চৌধুরী, সুমন দেবনাথ, পুলক খাস্তগীর, অমল চৌধুরী, ডা. কথক দাশ, অঞ্জন সিকদার, দেবাশীষ দাশগুপ্ত বাবু, পান্না পাল, শিবু প্রসাদ দত্ত, এড. নিখিল কুমার নাথ, দেবাশীষ নাথ দেবু, এস প্রকাশ পাল, দীপাল অনিন্দ্য পাল, সজল দত্ত, সুকুমার দাশ, এড. গৌতম হাজারী, রতন রায়, সিদ্ধার্থ চৌধুরী বাবু, গোপাল বিশ্বাস, কানুরাম দে, এড. টিপুশীল জয়দেব, অরুন চৌধুরী, সত্যজিত দাশ, সমীর কর, নিখিল ঘোষ, এড. নটু চৌধুরী, সন্জীব বৈদ্য, চন্দনময় নন্দী টিটু, ডা. অঞ্জন কুমার দাশ, মুকুন্দ ব্রহ্মচারী, বিভু ধর, হিল্লোল সেন উজ্জ্বল, রুমন ভট্টাচার্য্য, কনক বসাক, প্রসেনজিৎ সরকার প্রমুখ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, আবহমানকাল থেকে এদেশের মানুষ অসাম্প্রদায়িক চেতনা নিয়ে বসবাস করে আসছে। যে কোরো মূল্যে সে ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে হবে। ধর্ম যার যার উৎসব সবার। এদেশ কারও একার নয়, এদেশ সবার। শ্রীকৃষ্ণ আজীবন মানবতার জয়গান গেয়ে গেছেন। তাই তাঁর আদর্শ ধারন করতে পারলে সমাজে কোন বৈষম্য থাকতে পারে না। আবহমান কাল থেকে এদেশের মানুষ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে বিশ্বাসী। আমাদের এই ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে হবে এদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বন্ধনকে কেউ কোনদিনই নষ্ট করতে পারবে না।

চট্টগ্রামস্থ ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনার অনিন্দ্য ব্যানার্জী বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারতও আপনাদের পাশে ছিল। এমনকি আমাদের দেশের অনেক নাগরিকও বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদ হয়েছিলেন। যা নিয়ে আমরা গর্ব করতে পারি। বন্ধুপ্রতীম দেশ হিসেবে অতীতের ন্যায় ভারত সবসময় বাংলাদেশের পাশে থেকে কাজ করে যাবে। গত ৪৮ বছরে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে অনেক উন্নতি করেছে। বাংলাদেশের এ উন্নতি বিশ্বে সমাদৃত হয়েছে।

বর্ণাঢ্য মহাশোভাযাত্রা উদ্বোধনের পর আন্দরকিল্লা, লালদিঘী, কোতোয়ালী, নিউমার্কেট, তুলসীধাম, ডিসি হিল, চেরাগী পাহাড় হয়ে জেএমসেন হল প্রাঙ্গণে পৌঁছালেও মহাশোভাযাত্রার শেষ অংশ তখন আন্দরকিল্লা পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। পথিমধ্যে হাজার হাজার নারী-পুরুষ বিভিন্নস্থানে দাঁড়িয়ে বাড়ির ছাদ থেকে ফুল ও উলুধ্বনি দিয়ে মহাশোভাযাত্রাকে স্বাগত জানায়। শোভাযাত্রা শেষে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা গৌরাঙ্গ দে ও সাধারণ সম্পাদক বিমল কান্তি দে, শোভাযাত্রার আহবায়ক অলক দাশ ও সচিব লায়ন আশীষ কুমার ভট্টাটার্য্য সকলকে ধন্যবাদ জানান।

দ্বিতীয় পর্বে দুপুর ১টায় উৎসব মঞ্চে পান্না পালের সভাপতিত্বে মাতৃসম্মেলন উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম রামকৃষ্ণ মিশনের অধ্যক্ষ শ্রীমৎ শক্তিনাথানন্দজী মহারাজ। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন সমাজসেবা অধিদপ্তরের সাবেক অতিরিক্ত পরিচালক বন্দনা দাশ। আশীর্বাদক ছিলেন শ্রীমৎ স্বামী লক্ষ্মী নারায়ণ কৃপানন্দ পুরী মহারাজ। প্রধান বক্তা হুলাইন ছালেহ নুর ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ ছন্দা চক্রবর্তী। আলোচনায় অংশ নেন অধ্যাপক রূপন ধর, অধ্যাপিকা পপি সাহা। শিপ্রা চৌধুরীর সঞ্চালনায় মাতৃ সম্মেলনে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন রূপালী সরকার। বক্তব্য রাখেন কবরী রক্ষিত, গীতা চক্রবর্ত্তী, রুমকি সেনগুপ্ত, ঊষা আচার্য্য, ঝর্ণা নন্দী, রিংকু ভট্টাচার্য্য, পম্পী দাশ, শিল্পী চৌধুরী, লক্ষ্মীকর চৌধুরী প্রমুখ।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে