সেবক হিসেবে কাজ করতে চান মহেশখালী থানার ওসি (তদন্ত) বাবুল আজাদ।

0
669
চৌকস পুলিশ কর্মকর্তা বাবুল আজাদ

ফুয়াদ মোহাম্মদ সবুজ: সদ্য মহেশখালী থানায় ওসি (তদন্ত) হিসেবে যোগ দিয়েছেন চৌকস পুলিশ কর্মকর্তা বাবুল আজাদ। গত ১৯ জুলাই তিনি আনুষ্ঠানিক কর্মস্থলে যোগ দেন। মহেশখালী থানায় যোগ দেয়ার পর থেকে নির্ঘুম ও নিরলসভাবে কাজ করছেন পুলিশের এই কর্মকর্তা। ইতিমধ্যে তিনি বেশ কয়েকটি সফল অভিযানের মাধ্যমে কালারমারছড়ার চালিয়াতলী চাঞ্চল্যকর তরুণী গণধর্ষণ মামলার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উদঘাটন ও প্রধান আসামীকে গ্রেফতার করছেন। এছাড়াও আরো কয়েকজন দাগী আসামী গ্রেফতারে নেতৃত্ব দিয়েছেন। এভাবে তিনি অল্প সময়েই তার কৃতিত্ব দেখিয়েছেন। স্থানীয় লোকজন এই তথ্য জানিয়েছেন।

এই প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাবুল আজাদ জানান, পুলিশ হচ্ছে জনগণের সেবক। তিনি পুলিশের যোগ দেয়ার পর থেকে সব সময় এই কথা মাথায় রেখে কাজ করে এসেছেন। ভবিষ্যতেও এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে জনগণের সেবক হিসেবে নিরলস কাজ করে যেতে চান।

ওসি (তদন্ত) বাবুল আজাদ বলেন, ‘এখন পর্যন্ত মানুষের নির্ভরযোগ্য ঠিকানা পুলিশ। স্থানীয়ভাবে ন্যায় বিচার না পাওয়া এবং ফৌজদারী অপরাধের বিচার পেতে সর্বস্তরের মানুষে ছুটে আসেন পুলিশের কাছে। সে ক্ষেত্রে অসহায় ও নির্যাতিত মানুষের পুলিশী সহযোগিতা বেশি দরকার। কারণ স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালীদের কাছে তারা নির্যাতনের শিকার হন এবং ন্যায় বিচার পান না। এই পরিস্থিতিতে যদি তারা পুলিশের সহযোগিতা না পায় তাহলে তাদের যাওয়ার জায়গা থাকে না। সে বিষয়টি মাথায় রেখে পুলিশকে কাজ করতে হয়।’

তিনি বলেন, ‘জনগণের সেবার জন্যই বসেছি। জনগণকে সেবার দিয়েই যাবো। আমাদের থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) স্যার দক্ষহাতে উপজেলার মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে যাচ্ছেন। তাঁর নেতৃত্বে আমি জনগণকে সঠিক সেবাটি দিতে সব সময় প্রস্তুত রয়েছি। এই জন্য সব সময়- সকলে কাজে ওসি স্যারের সহযোগিতা চাই।’

আলাপচারিতায় তিনি আরো বলেন, ‘সব পেশায় ভালো মানুষের পাশপাশি খারাপ মানুষও থাকবে- এটা স্বাভাবিক। আমাদের ক্ষেত্রেও তা চিরন্তন সত্য। তবে যারা মানুষের কাছে দায়বদ্ধ হয়ে কাজ করে তারা খারাপ হতে পারে না। তাদের কাছে সেবাপ্রার্থীরা অবহেলার পাত্র হতে পারে না। এই বিশ্বাসটি আমি লালন করি। সেভাবে সেবার দেয়ার জন্য বদ্ধপরিকর হয়ে কাজ করছি আমি।’

মহেশখালীর মানুষ প্রসঙ্গে বাবুল আজাদ বলেন, ‘মহেশখালী একটি অপরাধপ্রবণ এলাকা। সে কারণে এখানে অপরাধের মাত্রা একটু বেশি। তবে খারাপ লাগার বিষয় হচ্ছে- অপরাধীদের বাঁচাতেই এক শ্রেণির লোকজন থানা ও পুলিশের কাছে দৌড়ঝাঁপ করে। মহেশখালীতে এই সংখ্যাটা বেশি মনে হচ্ছে। এই দালালদের তদবিরে ইতিমধ্যে অতিষ্ঠ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। তবে তাদেরকে আমি কঠোরভাবে শাসিয়ে দিচ্ছি- এসব দালালি বন্ধ করতে। তা না হলে এদের বিরুদ্ধে এ্যাকশানে নামবো।’

জানা গেছে, বান্দরবানের নাইক্ষছড়ির ঘুমধুম এলাকার সন্তান ওসি (তদন্ত) বাবুল আজাদ। উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করেছেন কক্সবাজার সরকারি কলেজে। ২০০৮ সালের পুলিশের এসআই পদে যোগদান করেছিলেন। নিজের দক্ষতা ও সাহসিকতায় তিনি ২০১৬ সালে পরিদর্শক হিসেবে পদোন্নতি পান। আগেই উপ-পরিদর্শক (এসআই) হিসেবে কক্সবাজার মডেল থানায় এবং পরিদর্শক হিসেবে কক্সবাজার জেলা ডিবি পুলিশে দায়িত্ব পালন করেছেন। সবখানে জনগণের সাথে মিশে গিয়ে কাজ করার জন্য তার একটা সুখ্যাতি রয়েছে। এ কারণে সবার কাছে ভালো গ্রহণযোগ্যতাও রয়েছে তাঁর। মহেশখালীতে দায়িত্ব পালনে তিনি পুলিশের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও জনগণের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেছেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে