চাঁদপুরে ঘরে ঢুকে গৃহবধূকে কুপিয়ে হত্যা

    0
    723

    মোঃ রবিউল অালম। চাঁদপুর:

    চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলায় সাবেক প্রেমিকের হাতে জাহিদা আক্তার মিশু নামে এক গৃহবধূ খুন হয়েছেন। আজ সোমবার সকালে উপজেলার রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের চর মহুয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত জাহিদা আক্তার মিশু ওই এলাকার মৃত সেলিম মিয়ার মেয়ে এবং ফরিদগঞ্জ উপজেলার সন্তোষপুর গ্রামের প্রবাসী সোহেলের স্ত্রী। এ ঘটনায় স্থানীয়রা শোহেব খান নামে এক যুবককে আটক করে পুলিশে দিয়েছে।

    নিহত মিশুর মা সালেহা বেগম জানান, প্রায় তিন বছর আগে ফরিদগঞ্জ উপজেলার সন্তোষপুর গ্রামের সালামত উল্লাহর ছেলে সোহেলের সঙ্গে জাহেদা আক্তার মিশুর পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের আগে একই এলাকার আবুল বাশারের ছেলে সুজন খানের সঙ্গে মিশুর প্রেমের সম্পর্ক ছিল এবং তাদের মোবাইলে কথাবার্তা হতো। কিন্তু বিয়ের পর সুজনের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয় মিশু। স্বামী কাতার প্রবাসী হওয়ায় মিশু বাবার বাড়ি আসলে সুজন খান তাকে বিরক্ত করতো এবং তার সঙ্গে পালিয়ে যাওয়ার কথা বলতো।

    তিনি আরো জানান, তার কথা না শোনায় সুজন কয়েকজনকে নিয়ে সোমবার ভোরে বসতঘরে ঢুকে মিশুকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে রক্তাক্ত করে। এ সময় তিনি এগিয়ে আসলে সুজন তাকেও কোপাতে অগ্রসর হয়। পরে মিশুকে উদ্ধার করে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। ঢাকায় নেয়ার পথে দাউদকান্দির কাছাকাছি মিশুর মৃত্যু হয়।

    এ বিষয়ে নিহত মিশুর চাচা ও স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার সেকান্দার অভিযোগ করে বলেন, এ হত্যাকাণ্ড মিশুর শশুরবাড়ির লোকজনই পরিকল্পিতভাবে করিয়েছে। কারণ মিশুর বিয়ে হওয়ার কয়েক মাস পরই তার স্বামী কাতার চলে যায়। ওই সময় তারা তাকে বিদেশে পাঠানোর জন্য আর্থিক সহযোগিতা করেন। পরবর্তীতে আরো সহযোগিতার জন্য তাদের কাছ থেকে অনেক টাকা-পয়সা দাবি করে মিশুর শশুরবাড়ির লোকজন। তাদের দাবি পূরণ না করায় স্বামী এবং শ্বশুরবাড়ির লোকজন পরিকল্পিতভাবে এলাকার ওই বখাটে ছেলেদের মিশুর পেছনে লেলিয়ে দেয়। এ হত্যাকাণ্ডেরে সঙ্গে আবুল বাশারের ছেলে সুজন খান, শোহেব খান এবং মিশুর স্বামীর দুই ভাই হোসেন এবং জুয়েল জড়িত রয়েছে। আমরা এ হত্যার বিচার চাই।

    ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল রকিব জানান জানান, এ ব্যাপারে তদন্ত চলছে।

    একটি উত্তর ত্যাগ

    আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
    এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে