সাহিত্যকথা পরিষদ এর আয়োজিত কবিতা সাপ্তাহ – ১৮এর ফলাফল

0
816

সাহিত্যকথা পরিষদ এর আয়োজিত কবিতা সাপ্তাহ – ১৮এর ফলাফল

তারিখঃ ২০/০৭/২০১৯ইং,
রোজঃ শনিবার

সম্মানিত লেখক ও পাঠকগণের উদ্দেশ্যে ফলাফল প্রকাশের পূর্বে কিছু সংক্ষিপ্ত কথা বলার প্রয়োজন বলে মনে করছি। আমাদের সাহিত্যকথা পরিষদ এর প্রথম লক্ষ্য বাংলা সাহিত্য জগতে নবীন- প্রবীণ তরুণ – তরুণীদের নিয়ে সাহিত্য ধারার নতুনত্ব সৃষ্টি করা। লুকিয়ে থাকা প্রতিভাকে সবার দুয়ারে পৌঁছে দেওয়া এবং তাদের আলোয় আলোকিত করে পরবর্তী প্রজন্মের চলার পথ সহজ ও সুগম করা। আমরা ভাবি হয়তো আমাদের এই সাহিত্য প্রেমীদের মাঝ থেকেও একদিন এই বাংলায় জন্ম নিতে পারে কবি নজরুল, রবিঠাকুর, জসীম উদ্দীন কিংবা জীবনানন্দ দাসের মতো কোনো কিংবদন্তী। যাদের দ্বারা এই বাংলার আকাশ, বাতাস, মাটি, নদীনালা জল নতুন রূপ নিবে। পাবে ফিরে নতুন সতেজ সজীব প্রাণ। সেই লক্ষ্য নিয়েই সাহিত্যকথা পরিষদ – এর পথচলা আর কিছু প্রচেষ্টা।

সাপ্তাহিক সেরা কবিতা বাছাইয়ে যাদের শ্রম রয়েছে —

১/সভাপতি,,,শাহানাজ পারভীন শাহীন( কবিও গীতিকার)
২/ সাধারণ সম্পাদক- স্বাধীন বাবু,( কবি,গীতিকার,সুরকার ও কণ্ঠশিল্পী)
৩/সহ,সভাপতি,মোঃ অালম(কবি)
৪/এম কে সম্রাট( কবিও গীতিকার)
৫/সহ,সম্পাদক,এইচ টি এম মাসউদ( কবি)
৬/সহ,সম্পাদক,বেলাল হোসেন(কবি)
৭/সাংগঠনিক সম্পাদক,,জামাল উদ্দীন মৃধা(কবি)
৮/সহ,সাংগঠনিক সম্পাদক,সোনিয়া খান,,(কবি)
৯/প্রচার সম্পাদক,এরশাদ আলী(কবি)

আগামী বই মেলায় সাহিত্যকথা পরিষদ হতে “কবিতা সাপ্তাহ” থেকে বাছাইকৃত সেরা যে সাত কবিতা বই আলোকিত করে সাহিত্যপ্রেমীদের মন জুড়াবে তা নিচে দেয়া হলো–

★★১। আগামীর গ্রীষ্মকাল
আবু জাফর বিঃ

কাঠফাটা রোদ উষ্ণ ক্রোধ গ্রীষ্মের দাবদাহ খরতাপে;
গ্রীষ্মকাল করে নাজেহাল তার চিরায়ত তপ্তরুপে।
নেই বৃষ্টি মেঘের সৃষ্টি, প্রাকৃতিক দুর্যোগের আশঙ্কা,
এই পরিবেশের কারণ বিপর্যয়ের; অধিক জনসংখ্যা।

যত দিন যাচ্ছে বাড়াতে হচ্ছে সব ফসলের উৎপাদন,
বারো মাস; টলের চাষ, ইরি-বোরো ও আমন।
ভূগর্ভস্থ পানির নামছে স্তর, ভয়ঙ্কর দ্রুত গতিতে,
তারই কারণ আসছে পরিবর্তন চিরসবুজ প্রকৃতিতে।

আরো দীপ্ত হতে পারে তপ্ত আগামীর গ্রীষ্মকাল,
করে আগ্রাসন পরিবেশ দূষণ এভাবে থাকে বহাল।
যত শিল্পায়ন ও নগরায়ন আধুনিকতার বিবর্তন,
অপরিকল্পিত স্থাপনায় জল-বায়ুর হচ্ছে পরিবর্তন।

করছে বাড়ি উজাড় বনভূমি হচ্ছে ইমারত নির্মাণ,
নদী ভাঙছে কমে আসছে আবাদী জমির পরিমাণ।
গাছ কাটায়; ইটের ভাটায়; ক্ষতি করছে ভীষণ,
রাসায়নিক সারে পলিথিন ব্যাগে ভূমি হচ্ছে দূষণ।

নতুন সৃষ্টির প্রত্যয় আগামীর; চেতনা হোক দৃপ্ত,
গাছ লাগান পরিবেশ বাঁচান, হয়ে সবাই একত্রিত।
পরিকল্পনা মতে দ্রুত গতিতে কমাতে হবে জনসংখ্যা,
প্রাকৃতিক ভারসাম্য সবার কাম্য, চাই না ভয়-শঙ্কা।

★★২। রথ
কামরুল বাহার মিঠু খান।

হঠাৎ করে থামবে যেদিন জীবন নামের রথ,
রইবে পড়ে এই পৃথিবীর দূর সীমাহীন পথ।
খালি হাতে এসেছি একদিন ফিরে যাব খালি হাতে,
রথের গতি ঘুরায়েছি শুধু শতো ঘাত প্রতিঘাতে।
আদেশ করেছে মহান খোদা করতে তার সাধন,
সেই সব কথা মানিনি আমি করিনি কোনো ভজন।
চেয়েছে তিনি ক্ষুধার অন্ন পারি নাই কভু দিতে,
এঁটেছি ফঁন্দি দিয়েছি ধোঁকা ভুলিনি ছিনিয়ে নিতে।
হিসাবে যতোই করেছি ভুল মায়ার বাঁধন লাগি,
পর স্বার্থ করতে হরণ রাখিনি কাহারো ভাগি।
রথের চাকাটা থেমেই যাবে কোন দিন যেন কবে,
এসেছে যারাই যেতেই হবে থাকে নাই কেহ ভবে।
ঘড়াটা যেদিন পূর্ণ হবে আপনার যতো পাপ,
কাঁদিলে হাজার পার পাবেনা হবেনা কোনোই মাফ।
এখনি সময় নোয়াও মাথা প্রভুর চরণ তলে,
করোনা কারো স্বার্থ হরণ আপনার বাহুবলে।
আপনালয় আলোকিত করো খোদার সকল ধ্যানে,
মহিমাম্বিত পুণ্য জীবন সুবাস ছড়াবে প্রাণে।
সময় থাকতে করো সাধন আপনার সব ত্যাগে,
পাঠিয়েছে যিনি ধরগো তারে রথ থামিবার আগে।

★★৩। বাঁশ সমাচার
এম, হাবিবুর রহমান

বাঁশের অনেক গুণ আছে তাই
অনেকে বাঁশ চাষ করে,
বাঁশের কচি কোঁড়ল নাকি
কঠিন ব্যাধি নাশ করে।

বাঁশ দিয়ে হয় ঘরের খুঁটি
বাঁশ পাওয়া যায় সস্তাতে,
রডের কাজও বাঁশ দিয়ে হয়
ফেরানো যায় লস তাতে।

বাঁশের লাঠি থাকলে হাতে
ষাঁড় গরু যায় বশ করা,
বাঁশের ভয়ে সবাই সোজা
কেউ করে না মশকরা।

অসাধু বস সাজেন সাধু
উপরওয়ালা বাঁশ দিলে,
জপেন ভয়ে তওবা কালাম
আপন মনে খাস দিলে।

বাঁশের কিছু দোষ আছে ভাই
বাঁশ যদি দাও দোষ ছাড়া,
সে বাঁশ আবার আসবে ফিরে
করবে তোমায় হুঁশ ছাড়া।

★★৪। নৈতিকতার ভাত নেই আজ
মোঃ জাকারিয়া

নৈতিকতার ভাত নেই আজ
বিবেক মাঝে ঝং,
তাইতো আজি মানবজাতি
করছে কতো ঢং।

সত্যটাকে দিচ্ছে মাটি
মিথ্যার বুনে জাল,
নৈতিকতা বলতে গেলে
তুলবে পিঠের ছাল।

রাজবিধটা মাথার উপর
নিত্যই উঠে নাচে,
একটু নরলে গর্দান যাবে
অস্ত্র তারি কাছে।

চোর চামারে দেশ ভরেছে
বলতে কবু বারণ,
নাই যে মোদের বিবেক বুদ্ধি
এটাই মূল কারণ।

সন্ত্রাসীরা রঙ্গ করে
দেশটা মুঠোই ভরে,
যেথায় যেথায় বোমাবাজি
অসহায়রা মরে।

নাইকো কোনো বাঁধা বিরোধ
ভয়ে সবাই কাতর,
চোখে দেখেও অন্ধ সাজি
হৃদয় যেনো পাথর।

★★৫। কলমে আমার বিদ্রোহী ভৃগু
দেবাশিস বসু

উড়ে পালাতে চেয়েছিলাম
ভাঙা ডানা নিয়ে
পথ আটকে দাঁড়িয়ে বৃদ্ধ প্রাচীর-
জিভটা আমার বুকে সরীসৃপ
বাকীটা তো সবারই জানা
শিকারের মনে বিভ্রম- শিকারীর লালসা
মুক্তোদানা ঝরে পড়ে আমার দুচোখ বেয়ে
উন্মোচিত অশ্লীল নগ্নতায়-
শীতল স্পর্শের কৃষ্ণগহ্বর
শুষে নেয় যাবতীয় প্রাণের স্পন্দন
ভয়ার্ত নিঃশ্বাস আটকে থাকে বুকে
মন্থনের বিষ সারাটা শরীরে
লাল নীল বিদ্যুতের ঝলকানিতে
নেমে আসে অন্ধকার
গ্যাস চেম্বারে পুড়ে যাওয়া বাতাসের
শেষ পরমাণুর মতো আমি পড়ে রইলাম
শেষ ভিডিওর সময়সীমা –
হাজারো ইঁটের বোঝা বুকের পাঁজরে

অন্ধকার দিলো পোষাক
নিঃসঙ্গ চাঁদ দিলো আশ্বাস
তারাদের অন্ধকারে
এতো কাছে এলো চাঁদ
যেন আমি ছুঁতে পারি
ধুয়ে দিল যত পাঁক
এতদিন অপাপবিদ্ধ শরীরে

দশটি মুহূর্তে জীবনটা বদলে গেল
পরিচিত পৃথিবীটার হলো পুনর্গঠন
প্রিয় মানুষগুলোর চোখে বুভুক্ষা
ইন্দ্রের সারা শরীরে সহস্র যোনিচিহ্ন
শরীরজোড়া অজস্র ক্ষত-ক্ষতচিহ্ন
সংবাদপত্রে,আদালতে,
সামাজিক সব মাধ্যমে-লিপ্সা
শান্তিরক্ষকের চোখের তির্যক চাহনিতে
সবগুলো চোখ তাকিয়ে আছে
বুকের পাঁজরে-জরায়ু ভেদ করে
তাকিয়ে আছে সহস্র চোখের ছুরিকা –
রক্তের আস্বাদনে

হাতে তুলে নিলাম সাহসী কলম
আর একটা সাদা কাগজ
যখনই সেই শব্দের হাতুড়ি মস্তিষ্কে
“এই পৃথিবীতে তুমি এক ধর্ষিতা-
নিঃসঙ্গ নির্বান্ধব পতিতা”
হাতে তুলে নিই কলম তরবারির মত
আমি ছিন্ন করবো যত মেকী সভ্যতা
মিথ্যে সামাজিকতা-ভেকধারী আইন
কলমে আমার বিদ্রোহী ভৃগু
এঁকে দেবে
নিস্পৃহ ভগবানের বুকে জোড়া পদচিহ্ন।

★★৬। রক্তে ভেজা মাটি
জাকির আহমেদ জয়

রক্তে ভেজা মাটির গায়ে
শহিদদের রক্তের ঘ্রাণ,
হাত লাগাতেই মাটির বুকে
কেঁদে উঠে আমার প্রাণ।
যেন আজো এই লাল মাটি
কেঁদে কেঁদে বলে,
এিশ লক্ষ যোদ্ধা ছেলে
ঘুমিয়ে আছে আমার কোলো।
সবুজের বুকে লাল পতাকা
হাওয়ায় ভেঁসে উড়ে,
ওদের যেন আমি দেখতে পাই
সারা পতাকা জুড়ে।
রাষ্ট্র ভাষা বাংলা চাই
বাংলা মুখের বুলি,
বুক পেতে দিয়ে মরতে রাজি
না হয় খেয়ে গুলি।
মা-মাগো তুমি কাঁদছো কেন?
মনে লাগছে ভয়,
কান পেতে শোন তোমার ছেলেরা
স্লোগান দিয়ে কয়।
আমার সোনার বাংলা
আমি তোমায় ভালোবাসি,
তোমার জন্য হাসি মুখে
দিতে পারি গলে ফাঁসি।
সইতে পারি বুকেতে আঘাত
কাঁদো কেন চোখের জলে?
শত আবর্জনা ভেঁসে যাবে না হয়
আমাদের রক্তে ঢলে।
মা-মাগো এবার
হাসো একটু করে,
অভিমানে যদি চুপ করে রও
তাহলে যাবো মরে।
বাংলা আমার জন্ম ভূমি
বাংলায় জননী,
বাংলার জন্য শত বার আমি
হতে পারি কুরবাণী।
কান পেতে রই মাটির বুকে
মুগ্ধ মাটির ঘ্রাণে,
এিশলক্ষ শহিদ বেঁচে আছে আজো
কবি জাকিরের প্রাণে।

★★৭। জীবন
রূপালী গোস্বামী

জীবন যুদ্ধ বড়ই কঠিন
সুখ টা সবাই চায়,
জীবনে কেউবা জেতে
শেষে কেউবা হেরে যায় ।
জীবন পথে চলতে গেলে
বিঁধবে পায়ে কাঁটা,
জেনে রেখো জীবন টা নয়
ফুলের উপর হাঁটা ।
সামনে কতই দুঃখ – বিপদ
কত রকম ভয় ,
মনের মাঝেও শান্তি যে নেই ,
হতাশা সংশয় ।
সৎ – ভাবনা যতই থাকুক
মনে তোমার আমার,
সবখানেতেই খোলা জেনো ,
প্রলোভনের দ্বার ।
সুখ – দুঃখ সবই থাকবে
জীবন সংগ্রামে
এ জীবনে চলতে গেলে
প্রেমের সুধা বিলিয়ে দিও
সব মানুষের অন্তরে ,
জীবনটাকে জয় করবার
এটাই সেরা মন্ত্র যে ।
সত্যম – শিবম – সুন্দরম ।।

বিজয়ী কবিদের সাহিত্যকথা পরিষদের পক্ষ থেকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে