একমাত্র পজেটিভ চিন্তাধারাই পারে ধর্ষণ বন্ধ করতেঃ

0
922
ছবি সংগৃহিত

ফারহানা আফরোজ লিপি (সমসায়িকী নিয়ে ব্যাক্তিগত লেখা)

আজ আমি ধর্ষণ নিয়ে কিছু লিখবো, কেউ নেগেটিভ মাইন্ডে নিবেন না

আজকাল ধর্ষণ একটি হুমকির নাম, বৃদ্ধা থেকে শুরু করে ছোট শিশু সবাই এর শিকার হচ্ছে, কিন্তু কেন, এর জন্য দায়ী কে, সামাজিক অবক্ষয় নাকি আধুনিকতা নাকি ধর্ম এর প্রতি ভয়ভীতি কমে যাওয়া।

যাই হোক খুব বেশি বছর আগের কথা না, যে সময়ে পরিবার তো দূরের কথা গ্রামের বা দূর সম্পর্কের মানুষের কাছেও একটা মেয়ে নিরাপদ ছিল, গ্রামের একটা ছেলে বা পুরুষের কাছে গ্রামের বউ মেয়ে ছিল গ্রামের সম্মান, আর এই সম্মান কেউ নস্ট করবে বা হতে দিবে কারো দারা এটা যেন ভাবতেই পারতো না, তখন ছিল সমাজের ভয়, লোকে কি বলবে, আর ছিল লজ্জা, কেউ জেনে গেলে লজ্জায় মুখ দেখাতে পারবেনা এই ভয় ছিল, শুধু তাই নয় ধর্ম এ এটা পাপ মহাপাপ এটা করলে জঘন্য পাপী হতে হবে এটা ছিল প্রধান কারণ, তখন মানুষ কম জানলেও মানতো অনেক বেশি, স্কুল কলেজে মেয়েরা একাই যেত, কোন সমস্যা ভয় ছিলনা, একা বাড়িতেও সেফ ছিল।

আজ সব উল্টো হয়ে গেছে ঘরে বাহিরে কোথাও মেয়েরা সেফ না, কিন্তু কেন

আজ প্রযুক্তির উন্নতি হইছে, মানুষ শিক্ষিত হইছে, সুজন প্রীতি ভুলে গেছে, যোগাযোগ কমে গেছে আপনজনদের সাথে, দায়িত্ব নাই বললেই চলে কারো প্রতি, আজকাল পাশের ফ্লাটের কেউ চিনেনা আর এলাকায় কি করে চিনবে।

যাই হোক আসল কথায় আসিঃ

ধর্ষণ আটকাতে হলে আমার মনে হয় সবার আগে পরিবার সচেতন হতে হবে, আপনার মেয়েকে ছোট থেকেই বাস্তবতা শিখান, এত আদর করে বলে আমার মেয়ে ছোট কিছু বুঝেনা, কলেজে পড়ে তাও বলে মেয়েকে খাওয়াইয়া দেই হাত দিয়ে খেতে পারেনা, যে মেয়ে হাত দিয়ে খেতে পারেনা সে নিজেকে প্রোটেক্টেড করার চিন্তা কিভাবে করবে, শিখাতে হবে সাধারণ জ্ঞান গুলা, কোথায় যাবে কি করবে কার সাথে মিশবে, কিভাবে মিশবে, আউট নলেজ বেশি শিখানো প্রয়োজন

আজকাল মেয়েদের গুটিয়ে রাখা হয়, এটা বলে শুধু পড়াশোনা কর ব্রাইট লাইফ লিড কর, ঘরবন্ধি হয়ে থাকে, না এটা ঠিক না, একটা মেয়েকে এক্সপার্ট হতে হবে স্মার্ট এর পাশাপাশি, প্রতিবাদী মন থাকতে হবে, সব কিছু সম্পর্কে জানতে হবে, মানুষ সহজেই চিনতে যেন পারে সেই দূর দৃষ্টি থাকতে হবে, মোট কথা মানুষের চোখের ভাষা বুঝতে যেন পারে।

আত্মরক্ষার কৌশল শিখতে হবে

ছোট শিশু যারা তাদের প্রতি পরিবারের নজর বেশি থাকতে হবে, কারণ ছোট রা ভালবাসার আদরের পাগল, ওরা আপন পর ভালমন্দ কম বুঝে, তাই ওদেরকে আরও নজরে রাখুন, খেয়াল রাখুন কোথায় যেতে চায় কি পছন্দ করে।

মেয়েরা খালি বাসে উঠবেন না, আর রাতেতো নাই, যখন দেখবেন বাসে কেউ নেই তখন নিজের সেফ জায়গায় নেমে যান, আর রাতে বাইরে চলার সময় অবশ্যই নিজের সিকিউরিটি নিয়ে আগে চিন্তা করুন, ফাকা জায়গায় দেখেশুনে চলবেন।

আর একটা কথা অবশ্যই থানার মোবাইল নাম্বার সংগ্রহে রাখবেন

চাকরি করতে যান বা যে কোন জায়গায় যান বাসায় তথ্য দিয়ে যাবেন

বন্ধু বানাবেন, সব বন্ধুদের তথ্য বাসায় জানিয়ে রাখবেন

আর পরিবার কে বলবো এখন প্রযুক্তির যুগ তাও আধুনিক প্রযুক্তি তাই খেয়াল রাখুন এই প্রযুক্তি আপনার সন্তান কিভাবে ব্যবহার করছে,

ইন্টারনেট ইউজ করে সন্তান রা কি কি করছে এসব খেয়াল রাখুন

ধর্ম এর অনুশাসন মেনে চলতেই হবে

মোট কথা সব বিষয় এ পজেটিভ থাকুন, চিন্তাধারা পজেটিভ করুন

একজন মানুষ যদি পজেটিভ চিন্তা করে সে অন্যায় করতে পারেনা, একটা মানুষ যদি সমাজের ভয় রাস্ট্রের বিচারের ভয়, চক্ষুলজ্জার ভয় থাকে তাহলে সে ধর্ষণ কেন কোন অন্যায় করবেনা

সরকারের একার পক্ষে কিছুই করা সম্ভব না যদি আমরা না বদলাই

আর সবচেয়ে যেটা বেশি সমস্যা সেটা বেকারত্বেরঃ
মানুষ যখন বেকার থাকে মাথায় বাজে চিন্তা কাজ করে, একা বাসায় কাজ না থাকলে হাজারো বাজে চিন্তা মাথায় আসে, সেটা দূর করা দরকার, শুধু চাকরি করতে হবে এমন না টেকনিক্যাল কত কাজ আছে, পরিবারের সবাই একসাথে বসে গল্প করুন আড্ডা দিন, পরিবার নিয়ে ঘুরে বেড়ান।

আসলে সবার সাথেই ভাল বন্ডিন দরকার, সমাজের সাথে বাইরের জগতের সাথে

আর ধর্ষণ করে খুন এটা ডাবল অপরাধ একটা জীবনের মানেই নস্ট করে দিলেন ধর্ষণ করে আবার খুন করে একটা জীবন নয় একটা পরিবার মেরে ফেললেন, একটা সমাজ একটা জাতি একটা রাস্ট্র নস্ট করলেন, ধর্ষণের অপবাদ নিয়েও সে হয়তো বেচে থাকতে পারতো, আল্লাহ তাকে সুন্দর জীবন দান করতে পারতো, কিন্তু খুন করে সব শেষ করে কি লাভ পেলেন, একটা জিবনতো নস্ট করলেন, সাথে কি আপনি বেচে গেলেন ভেবে দেখুন নিজের জীবন পরিবার সব শেষ করলেন।

অল্প সময়ের এনজয় কত বড় ক্ষতির কারণ ভেবে দেখবেন, তাই পজেটিভ হোন, ধর্ষণ করে কি লাভ হলো কার লাভ হলো কার ক্ষতি হলো, এটা ভাবুন, আপনি ধর্ষক, শাস্তি আপনার হবে, আপনার পরিবার সাফার করবে, সমাজ শুধু আপনাকে না আপনার পরিবার আত্মিয় সবাইকে থুতু দিবে, ভেবে দেখুন একটু আনন্দ কত কিছু কেড়ে নেয়,

পজেটিভ মন রাখুন, ভাল চিন্তা করুন সবার সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখুন,

আপনার শত্রু যেন আপনার সন্তানের ক্ষতি না করে সেটা ভেবে কাজ করুন

আসলে এটা নিয়ে লিখে শেষ করা যাবেনা।

শুধু বলবো পজেটিভ চিন্তা করুন, জীবন দান আপনি করেন নাই তবে জীবন আপনি কেন কেড়ে নিবেন

লেখিকা ফারহানা আফরোজ লিপি

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে