তাহিরপুর- সুনামগঞ্জ সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ‘ অর্ধশতাধিক গ্রামের মানুষ পানি বন্ধী

0
689

কামাল হোসেন ,তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) থেকে টানা কয়েকদিনের প্রবল বর্ষনে ও উজান থেকে পানি পাহাড়ি ঢলের পানিতে সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর উপজেলার প্রায় অর্ধশতাধিক গ্রামের মানুষ পানি বন্ধি হয়ে পড়েছে।

সেই সাথে প্রবল বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে উপজেলার আনোয়ারপুর ব্রীজের পূর্ব পাশে তাহিরপুর – সুনামগঞ্জ রাস্তার প্রায় ২শত মিটার রাস্তায় ভাঙ্গন ও বিশ্বম্ভপুর উপজেলার শক্তিয়ারখলা নামক এলাকার ১০০ মিটার ব্রীজের পূর্ব পাশ হতে বিশ্বম্ভপুর উপজেলা সদরের পার্শবর্তী বাঘমারা পয়েন্ট পর্যন্ত প্রায় ৩ কিলোমিটার রাস্তা পানির নিচে তলিয়ে যাওয়া সুনামগঞ্জ জেলার সাথে তাহিরপুর ও বিশ্বম্ভপুর উপজেলার কিছুটা অংশ সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। অপর পাহাড়ি ঢলের পানির স্রোতের কারণে দিকে উপজেলার উত্তর বাদাঘাট ইউনিয়নের সোহালা গ্রাম সংলগ্ন বাদাঘাট- সোহালা ভাঙ্গনের ফলে বাদাঘাট বাজারের সাথে অন্তত ১৫ টি গ্রামের মানুষের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এবং জানাযায়, গত ৮ জুলাই সোমবার বেলা ১২ থেকে আজ মমঙ্গলবার বেলা ১২ পর্যন্ত ১৭৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়ে। এদিকে তাহিরপুর উপজেলা সীমান্তের বিভিন্ন পাহাড়ি ছড়া দিয়ে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানি প্রবল বেগে নামার ফলে তাহিরপুর উপজেলার সীমান্ত রাস্তার বারেকটিলা থেকে মহিষখলা পর্যন্ত সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এমনকি সীমান্ত নদী যাদুকাটায় ও মাহারাম নদীর বালি পাথর উত্তোলনকারী প্রায় ৫০ হাজার শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছে।
জেরলার শতধিক শিক্ষা প্রতিষ্টানে পানি প্রবেশ করায় ক্লাশ বন্ধ রয়েছে। স্থানীয় একাদিক সূত্রে জানাযায় , টানা কয়েকদিনে বৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে উপজেলার দক্ষিণকুল, মাহতাবপুর, সীমানা, খাশতাল, চড়্গাও, রাজধরপুর, রামজীবনপুর, সাহেব নগর, পৈন্ডুপ, গোপালপুর, মারালা, নোয়ানগর, নোয়াগাঁও, ইক্রামপুর, জগদীশপুর, সাহসপুর, সুলেমানপুর, উমেদপুর, আনন্দনগর, পাটাবুকা, ভবানীপুর, দুমাল, লামাগাঁও, বিনোদপুর, ইন্দ্রপুর, পানিয়াখালী, জয়পুর, গোলাবাড়ী, ছিলানি তাহিরপুর, ভোরারঘাট, কামালপুর, জামালপুর, মাটিয়ান, তরং, নয়াবন্ধ, বালিয়াঘাট, দুধের আইউটা, জামলাবাজ, টাকাটুকিয়া, রসুলপুর, কাউকান্দি, কামারকান্দি, ধরুন্দ, কাঞ্চনপুর, ইউন‚ছপুর পাতারগাঁও, মাহতাবপুর, বড়দল সহ প্রায় ৫০টি গ্রামের মানুষ পানি বন্ধি হয়ে পড়েছে। এছাড়া উপজেলার উজান এলাকার আমন ধানের প্রায় দু’শ একর জমির বীজতলা ও শাকসব্জির ক্ষেত পানিতে ডোবে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বাদাঘাট উত্তর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামিলীগ নেতা নিজাম উদ্দিন বলেন, বিগত ২০০৪ সালের পর এত বড় আর হয়নাই। এ বছর বেশ কিছুদিন যাবৎ টানা বৃষ্টিপাত আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ব্যাপক বন্যার দেখা দিয়েছে। যার কারণে তাহিরপুর উপজেলা অধিকাংশ গ্রামের বাড়ি-ঘরে পানি উঠের ফলে জনসাধারণের ব্যাপকভাবে দূরভোগ দেখা দিয়েছে। এমনকি বন্যার পানির স্রোতে উপজেলাসহ পুরো জেলার বিভিন্ন সড়কে ভাঙ্গনের কারণে জেলাসদরসহ বিশেষ করে তাহিরপুর উপজেলার সাথে বাদাঘাটের সড়ক যোগাযোগ একেবারেই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। সরকার যদি অচিরেই ভাঙ্গন কবলিত রাস্তাঘাট মেরামত ও উপজেলার বন্যা কবলিত গ্রামের মানুষের জন্য ত্রাণের ব্যবস্থা না করে তা হলে ব্যাপকভাবে দূভোগ দেখা দিবে।

তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান করুনা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল ও শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান খসরুল আলম জানান, টানা বৃষ্টি আর উজান থেকে পানি এসে উপজেলার প্রায় অর্ধশতাধিক গ্রামের মানুষ পানি বন্ধি হয়ে পড়েছে। সীমান্তবর্তী পাহাড়ী চড়ার তীরবর্তী ঘরবাড়ীর পাহাড়ী ঢলে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষজন মানববেতর জীবন যাপন করছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে