ভালবাসার এ’পিঠ ও’পিঠঃ

0
1019

ভালবাসার এ’পিঠ ও’পিঠঃ

ফারহানা আফরোজ লিপি

আজ একটু রোমান্টিক কিছু লিখবো, তবে জাস্ট অনুভূতি শেয়ার, কেউ অন্য মাইন্ডে নিবেন না, তবে আশাকরি ভাল লাগবে

প্রেম ভালবাসা আদিম যুগের গল্প, নতুন কিছু নয়, পৃথিবী সৃষ্টিই হয়েছে প্রেম দিয়ে, প্রেম নাকি দেবতার আশির্বাদ, এটা নাকি অমৃত সুধা, সবাই পান করতে চায়, আর করেছেও সবাই, খুব কম মানুষ আছে যার জিবনে এই প্রেম নামক জিনিস টি আসেনি

প্রেম অনেক প্রকারের হতে পারে
আত্মার প্রেম, ভাবের প্রেম, প্রকৃতির প্রেম, আবার রঙের প্রেম, ছলনার প্রেম, রোমান্টিক প্রেম, কত প্রকার হতে পারে। আসলে একেকজনের কাছে একের রকম ব্যাখ্যা।

যাই হোক, আগে আসল প্রেমের কথা বলিঃ আসল প্রেম হলো সৃষ্টিকরতার সাথে যে প্রেম, সৃষ্টির সাথে যে প্রেম, নিজেকে সৃষ্টির মাঝে বিলিয়ে দেওয়াই হচ্ছে আসল প্রেম, মানুষকে ভালবেসে মানুষের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত করাই হচ্ছে আসল প্রেম, এই জগতের মায়া মমতা কাটিয়ে অনন্তকাল যে জগতের বাসিন্দা সবাই, সেই জগতের প্রেমে মত্ত হওয়ায় হলো আসল প্রেম।

আধ্যাত্মিক কথা শেষে এখন আসি বাস্তবতায়ঃ
আসলে ইতিহাস সাক্ষী প্রেম মানুষকে কোথায় নিয়ে গেছে, রাজার রাজত্ব, সম্পদ, আপনজনের মায়া, কোন পিছুটান ই বাধা হতে পারেনি এই প্রেম ভালবাসায়,
কত কঠিন যুদ্ধ জয় করেছে এই প্রেম, কত লাঞ্জনা গঞ্জনা, অপমান, দুঃখ কস্টকে উপেক্ষা করে প্রেমকে জয় করেছে। তার প্রমাণ লাইলী মজনু শিরী ফরহাদ, রোমিও জুলিয়েট, হিটলারের জন্মও ব্যর্থ প্রেমের কারনে, একটা রাজকুমারীর ভালবাসা তাকে হিটলারে পরিণত করেছে।

লিখতে গেলে শেষ হবেনা
যাই হোক এই প্রেমের আদান প্রদানের মাধ্যম ছিল, চিঠি, রাত জেগে হারিকেনের হালকা আলোতে চিঠি লিখতো, এক রাতে লিখা হতোনা, কি লিখবে সেটা ভাবতেই রাত শেষ হয়ে যেত, আর ডায়েরির পাতাও, কয়েক রাত ধরে চিঠি লিখে আবার সেটা প্রিয় মানুষের হাতে যেতে আরো সপ্তাহ খানেক সময় লাগতো, আহা কি আবেগ কি ভালবাসার ছোওয়া থাকতো তাতে, আর কত দিন কত রাত এক চিঠি বারবার পরতো, লুকিয়ে দেখা করা, গভীর রাতে দেখা করা কত ভয়, কত লজ্জা, এসবের মাঝে ছিল প্রতিনিয়ত যুদ্ধ, কত বিচার হতো ধরা পরলে, মাইর ও খেতে হতো, এত কিছুর পরেও ভালবাসার মানুষের সাথে ঘর করা হতোনা, কেউ কেউ হারানোর কস্ট সইতে না পেরে সুইসাইড করতো। সেই ভালবাসাগুলো হারিয়ে যায়নি কখনো, যুগ যুগ ধরে মনের গভীরে চিরস্থায়ী বাসা বেধেছিল।

তারপর এলো মোবাইলঃ রং নাম্বারে প্রেম, বা নাম্বার সংগ্রহ করে প্রেম, ফ্রি মিনিটে সারারাত গল্প, এক সময় প্রেম, এই প্রেমটাও মোটামুটি টিকতো, ভালই ছিল সে প্রেমগুলো।

তারপর আপডেট হলো আরো সবকিছু, এলো ফেইসবুক অন্যান্য সাইড নাই বললাম, ফেইসবুকে অচেনা অজানা প্রেম কয়দিনের মধ্যেই অনেক আপন হয়ে গেল, তারপর এলো ম্যাসেঞ্জার, এবার বলবো আসল কথা, আংগুলের একটু টাচ ব্যাস হয়ে গেল প্রেম, ম্যাসেঞ্জারে এড হলো অডিও ভিডিও আর যায় কই, একদিনে কত প্রেম যে করা যায়, শুরু হলো বাছাইয়ের প্রক্রিয়া, অনেকজনের সাথে চ্যাট কথা দেখা, এনজয় তারপর সিলেক্ট, আর এত বাছাইয়ের মাঝে আসল কে খুব কম পেয়ে থাকে, কেউ রিলেশন থেকে সরে গেলে যায় আসেনা, আংগুলের ছোওয়ায় নতুন কাউকে পাওয়া যায়, চায়না জিনিসের মত এখন প্রেম ভালবাসাও মডেল চেঞ্জ করে, নতুন নতুন আপডেট চায় সবাই

আর এই জন্যই না টিকে প্রেম না বিয়ে, সব যদি সহজে হয় কি দরকার কস্ট করার এটাই হয়ে গেছে মন মানসিকতার,
জুনিয়র নাই সিনিয়র নাই মান অপমান কিচ্ছু নাই, ভাবে আংগুলের টাচ দিয়েই দেখি Yes চাপে কিনা,

ওয়েস্টার্ন সব ইউজ করছে সবাই, মনে করছে এটাই কালচার, একবারও ভাবেনা আমরা মুসলমান, আমরা বাংগালী, সম্পুর্ণ আলাদা জাতি আলাদা পরিবেশ, ওদের যা মানায় আমাদের মানায় না, আমরা সামাজিক জীব, সমাজ নিয়ে বাস করি পরিবার ছাড়া চলতে পারিনা, সমাজের প্রভাব আমাদের মাঝে আছে, লজ্জা ভয়ভীতি মান সম্মান এগুলো আমাদের জন্মগত,

আমাদের মনমানসিকতা না বদলালে কিছুই বদলাবেনা

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে