ভোলায় আতঙ্কের আরেক নাম গলাকাটার গুজব

0
1210
মেহেদি হাসান মামুন

ভোলায় আতঙ্কের আরেক নাম “গলাকাটা” ও “ছেলেধরা”। আর এই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে ভোলা জেলার সব থানার জনপদে। ফলে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন গ্রামাঞ্চলের শিশু ও অভিভাবকরা। ‘ছেলে ধরা’ আতঙ্কে গ্রামের শিশুরা বাড়ি থেকে বের হতে ভয় পাচ্ছে।

অনেক গৃহকর্তারা শিশুদের বিদ্যালয় যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন।অপরিচিত লোক দেখলেই মানুষের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে। এতে বিপাকে পড়েছে ভিক্ষুকরা। অপরিচিত কেউ ভিক্ষা চাইতে গেলে গৃহস্থরা ভিক্ষা না দিয়ে ফিরিয়ে দিচ্ছেন।

ভোলা বিভিন্ন উপজেলার কোথাও না কোথাও শিশু ধরে নিয়ে গলা কাটছে এমন আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে মানুষের মাঝে। প্রতিদিনই গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে ‘ছেলে ধরা’র খবর আসছে। তবে ঘটনা অনুসন্ধান করতে গেলে তার সুনির্দিষ্ট কোনো সত্যতা মিলছে না।

চরফ্যাসন উপজেলায় বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত শিক্ষকরা জানান, শুক্রবার থেকে গুজবটি ছড়াতে শুরু করে। মোবাইল ফোনে ম্যাসেজ পাঠিয়ে শিশুদের সাবধানে রাখার পরামর্শ দিয়ে একটি চক্র সাধারন মানুষের মধ্যে দ্রুততম সময়ের মধ্যে গুজবটি ছড়িয়ে দেয়। শনিবার পর্যন্ত গুজব ভয়াবহ আতঙ্কে পরিনত হয়।

কেবল শিশু নয়, বিভ্রান্ত হয়ে পড়েছেন অভিভাবকরাও। আতঙ্কে অভিভাবকরা শিশুদের ঘরবন্দি করে রেখেছেন। অনেকে অভিভাবক বিদ্যালয়ের শিক্ষক, সাংবাদিক, থানা পুলিশ এবং জনপ্রতিনিধিদের কাছে আসল ঘটনা জানতে চেয়েছেন। শনিবার চরফ্যাসন উপজেলার সর্বত্র আলোচনার কেন্দ্রে ছিল এই গুজব গলা কাটার বিষয়টি।

চরফ্যাসন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন জানান, এটা গুজব। মানুষের অজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে এই গুজব ব্যাপক ডাল-পালা ছড়িয়েছে। কারা কোন উদ্দেশ্যে এমন গুজব ছড়িয়েছে তা বুঝা মুশকিল। তবে ব্যাপক প্রচারণার মাধ্যমে সকলকে গুজব সম্পর্কে সচেতন থাকতে পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

চরফ্যাসন থানার অফিসার ইনচার্জ সামসুল আরেফিন জানান, দিনভর সাধারণ মানুষ থানায় ফোন দিয়ে আসল ঘটনা কি-জানতে চেয়েছেন। মোবাইল থেকে মোবাইলে ম্যাসেঞ্জারে ম্যাসেজ পাঠিয়ে গুজবটি ব্যাপকভাবে ছড়ানো হয়েছে। এই গুজব ছড়ানোর নেপথ্যে কারা তাদের খুঁজে বের করতে সন্ধ্যার পর পুলিশের একাধিক টিম মাঠে নামবে। গলাকাটা আসার বিষয়টি গুজব। যার কোন সত্যতা নেই বলে জনগনের মধ্যে প্রচারণা চালাবেন। পাশাপাশি এই গুজবের নেপথ্যে কারিগরদের চিহ্নিত ও গ্রেফতার করা হবে বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, গুরুত্বসহকারে এই গুজবের লাগাম টেনে না ধরলে বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে।

এ ব্যাপারে জনগণকে সচেতন করার জন্য ভোলা মেট্রো পলিটন পুলিশের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে এবং থানা পেজে প্রচার করা হয়েছে যে এ সবই গুজব। ’

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে