লক্ষ্মীপুরে ছাত্রলীগ নেতাকে গাছে বেঁধে মারধর!

1
655

অ আ আবীর আকাশ,লক্ষ্মীপুর :

লক্ষ্মীপুরে মোবারক হোসেন নামে এক ছাত্রলীগ নেতাকে গাছের সাথে বেঁধে মারধর করেছে স্থানীয়রা। গত শুক্রবার (৫ জুলাই) সদর উপজেলার কুশাখালী ইউনিয়নের ঝাউডগি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মোবারকসহ কয়েকজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

এদিকে ছাত্রলীগ নেতাকে গাছের সাথে বেঁধে রাখা কয়েকটি ছবি রবিবার (৭ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এতে শুরু হয় তোলপাড়, দেখা দেয় নেতাকর্মী ও জেলাবাসীর মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

মোবারক হোসেন উপজেলার কুশাখালী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের আহ্বায়ক।

জানা যায়, মেঘনা নদী ভেঙ্গে নিয়ে যায় জহির ও ইউসুফের ঘরবাড়ি। পরে সদর উপজেলার কুশাখালী ইউনিয়নের ঝাউডগী এলাকায় এক খন্ড জমি ক্রয় করেন তারা। সেখানে ঘর নির্মাণ করে বসবাস করছেন কিন্তু একই জমির মালিকানা দাবি করছেন ছাত্রলীগ নেতা মোবারক হোসেন। আর তাতেই ঘটে সৃষ্ট এই ঘটনা।

জহির ও ইউসুফ হোসেন বলেন, দশ বছর যাবত ক্রয়কৃত জমিতে নির্মিত ঘরে বসবাস করছেন তারা। কিন্তু ছাত্রলীগ নেতা মোবারক জমিটি দখলের উদ্যোশে তাদেরকে কয়েকবারই মারধর করেন। পাশাপাশি চাঁদা (টাকা) দাবিও করেন। গত শুক্রবারও সে অর্ধশতাধিক লোকজন নিয়ে বসতবাড়িতে হামলা চালায়। এতে তাদের চিৎকারে স্থানীয়রা মোবারককে আটক করে পুলিশে সৌপর্দ করেন।

অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা মোবারক হোসেন বলেন, নিজ জমিতে কাজ করতে গিয়ে তিনি হামলার শিকার হয়েছেন। সে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার উল্লেখ করে, এ ঘটনায় ইন্ধন দেওয়া ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা ও জড়িতদের শাস্তি কামনা করেন।
এ বিষয়ে কুশাখালী ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক কামাল উদ্দিন বলেন, জমি দখলের চেষ্টাকালে ছাত্রলীগ নেতাসহ কয়েকজনকে মারধর করে পুলিশে দিয়েছে স্থানীয়রা। তবে ছাত্রলীগ নেতাকে মারধরের ঘটনায় যুবলীগ জড়িত নয়।

এ বিষয়ে চন্দ্রগঞ্জ থানা ছাত্রলীগের যুগ্ন আহ্বায়ক আবু তালেব বলেন, ফেসবুকের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে শুনেছেন। গাছের সাথে বেঁধে মারধর, যা সত্যিই দুঃখজনক। তারপরেও প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে দোষীদের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি কামনা করেন তিনি।

এ ব্যাপারে চন্দ্রগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) মো: মফিজ উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, জমি সংক্রান্ত বিরোধে দুই পক্ষের মারামারি হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে ছাত্রলীগ নেতা মোবারকসহ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। পরে স্থানীয় ইউনিয়ন চেয়ারম্যান বিষয়টি মীমাংসা করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে আটককৃতদের নিয়ে যায়। তারপরেও বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে, তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

1 মন্তব্য

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে