১০৩ টাকায় ৩৩ জনকে পুলিশের চাকরি দিলেন এসপি মহিবুলইসলাম খান

0
706

এজি লাভলু, কুড়িগ্রাম: কুড়িগ্রামে মেধা ও
যোগ্যতার ভিত্তিতে পুলিশ কনস্টেবল পদে ৩৩ জনের চাকরি দিয়েছে
পুলিশ প্রশাসন। তবে একেবারে বিনা পয়সায় ঠিক নয়, মাত্র ১০৩
টাকায়। টাকা আর মামা-খালুর জোর না থাকলে পুলিশে চাকরি
পাওয়া যায় না! এমন কথা এ জেলায় ছিল প্রতিষ্ঠিত। সেই কুলষিত
সিন্ডিকেটের ভিত্তিতে আঘাত করেন নবাগত কুড়িগ্রাম পুলিশ
সুপার (বিপিএম) মোহাম্মদ মুহিবুল ইসলাম খান। তিনি
যোগদান করেই জেলার প্রতিটি উপজেলায় মাইকিং এবং লিফলেট
বিতরণ করে জনগণকে ঘুষ-দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার করেন।
কেউ যাতে পুলিশে চাকুরীর দেয়ার নামে অবৈধভাবে অর্থ
হাতিয়ে নিতে না পারেন। নবাগত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ
মুহিবুল ইসলাম খানের ব্যতিক্রমী প্রচারণায় আশায় বুক বেধেছে
দেশের প্রধানতম দারিদ্রপীড়িত জেলা কুড়িগ্রামের পিছিয়ে
মানুষ।
সারা দেশের ন্যায় কনস্টেবল নিয়োগ প্রক্রিয়ায় এবার কুড়িগ্রাম
থেকে নেওয়া হলো ৩৩ জনকে। মুক্তিযোদ্ধাসহ সব কোটা পূরণ করা
হয়েছে। যাচাই বাছাই শেষে ০৪ জুলাই বৃহস্পতিবার রাতে
চূড়ান্ত ঘোষণাও দেওয়া হয়। কুড়িগ্রাম পুলিশ সুপার
(বিপিএম) মোহাম্মদ মহিবুল ইসলাম খাঁন তার কার্যালয়ের
সামনে এই চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা দেন।
কুড়িগ্রাম পুলিশ সূত্র জানায়, প্রাথমিকভাবে ১৫৭৫জন চাকরি
প্রত্যাশী অংশ নিলেও লিখিত পরীক্ষা দিয়েছেন মাত্র ৬২৫ জন। এতে
উত্তীর্ণ হয় ১০৬জন। এর মধ্য থেকে চুলচেরা বিশ্লেষণ করে
সম্পূর্ণ মেধার ভিত্তিতে চূড়ান্ত করা হয় ৩৩ জনের নাম। স্থান পায়
৫ নারীও।
পাঁচ নারীর মধ্যে অন্যের হতদরিদ্র মায়ের সন্তান সাদিয়া। ছোট
বেলা থেকেই পুলিশে চাকরি করার ইচ্ছে ছিল সাদিয়ার। কিন্তু
অভাবের সংসারে ঘুষ দিয়ে চাকরি নেওয়ার সেই সামর্থ্য নেই তার।
অন্যের বাড়িতে কাজ করা মায়ের কষ্টের জমানো ২০০ টাকাই ছিল
সাদিয়ার একমাত্র পূঁজি। সে কুড়িগ্রাম পুলিশের

সচেতনতামূলক প্রচারণা আশায় বুক বাঁধে। নিয়ম অনুযায়ী
যাচাই বাছাই শেষে চূড়ান্ত পর্যায়ে যখন কুড়িগ্রাম পুলিশ
সুপার মোহাম্মদ মুহিবুল ইসলাম খাঁন তার হাতে ফুল দিয়ে
চাকুরীর বিষয়টি নিশ্চিত করেন তখন সে আবেগ আপ্লুত হয়ে
পড়েন এবং পুলিশ সুপারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।
এ ব্যাপারে কথা হলে নবাগত কুড়িগ্রাম পুলিশ সুপার মোহাম্মদ
মহিবুল ইসলাম খাঁন জানান, চাকরি পাওয়া ছেলে-মেয়েদের
অভিব্যক্তি শুনে আমি আনন্দিত হয়েছি। যারা চাকরি পেয়েছে
তাদের অধিকাংশই হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান। প্রকৃত
মেধাবিরাই সুযোগ পেয়েছে চাকরিতে।
তিনি আরও বলেন, কুড়িগ্রামে চাকুরীর দেয়ার নামে অর্থ
কেলেঙ্কারির দায়ে পুলিশের ৩ সদস্যকে ইতোমধ্যে সাময়িকভাবে
বরখাস্ত করা হয়েছে। সরকারসহ পুলিশের সর্বোচ্চ পর্যায়ের
কর্তাব্যক্তিরা চাচ্ছেন পুলিশে স্বচ্ছতা ফিরে আসুক। সেই চাওয়া
পূরণেই কুড়িগ্রাম পুলিশ নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছতার সঙ্গে
বাস্তবায়ন করেছে। এ ধারা আগামীতেও অব্যাহত রাখতে আমার
সর্বাত্মক চেষ্টা থাকবে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে