পিতাম্বার শাহ’র সুনাম যখন দেশ-বিদেশে

0
666

চট্টগ্রাম শহরে শৈশব থেকে দেখে আসছি কেউ যদি কোন কিছু খুঁজে হয়রান হতো তবে তাকে রসিকতা করে বলা হতো পীতাম্বর শাহর দোকানে যেতে। মিউনিসিপাল মডেল হাই স্কুলে পড়ার সময় এক স্কুল পালানো দুপুরে লালদীঘিতে ক্রিকেট খেলা শেষে বক্সিরহাট গিয়েছিলাম। দেখি আসলেই এই নামে একটা দোকান দাঁড়িয়ে আছে। ভেতরে ঢুকে দোকানের কাজ-কারবার দেখে রীতিমত অবাক হয়েছিলাম।

সামান্য সুঁই-সুতা থেকে অর্জুনের ছাল, অশোক, ত্রিফলস আমলকি-হরিতকী-বহেরা, তিতকুটে চিরতা, সুন্দরবনের মিষ্টি মধু, কষটে যষ্ঠী মধু, ময়ুর পাখ থেকে বাঘের দুধ, হরিণের কস্তুরী সব মিলবে এখানে। দুর্লভ ওষুধি গাছ ছাল বাকল। রয়েছে বিয়ে-পূজা-পার্বণ, ঈদ-কোরবানির সরঞ্জামও। কী নেই পীতাম্বর শাহ’র দোকানে। পসারি মাল ছাড়াও হোমিওপ্যাথিক, ওষুধি, আয়ুর্বেদিক, ইউনানী জাতীয় পণ্যের জন্য বিখ্যাত এই পীতাম্বর শাহ’র দোকান। এপার-ওপার দুই বাংলায় সমান খ্যাতি রয়েছে। ঢাকার নবাবপুর/ওয়ারীতে শাখা অফিস (একজাক্ট লোকেশন আমি জানিনা।) ছাড়া আর কোথাও কোন শাখা নাই। পীতাম্বর সাহার চতুর্থ প্রজন্ম এখন দোকানটি চালান। তিনি জানান গুরুজির নির্দেশে দেড়শো বছর আগে পীতাম্বর শাহ ঢাকা থেকে পায়ে হেঁটে ১৫-২০ দিনে চট্টগ্রামে পৌঁছেন। চট্টগ্রামে এসে দোকানটি কিনে ব্যবসা শুরু করেন। পরে তাদের সুনাম ছড়িয়ে পড়ে দেশে-বিদেশে। সবচে অবাক করা ব্যাপার হলো দেড়শো বছর ধরে এত ডাইভার্সিভাই আইটেমের সাপ্লাই চেইন ঠিক রাখা! যা তারা পেরেছে।

আসুন তাদের দোকানে সাজিয়ে রাখা কিছু ঔষধি আইটেমের নাম শুনি: যা তাদের কালেকশনের ক্ষুদ্রাংশ মাত্র

শতমূল, জিনসেং, মুগানি, কস্তুরি, ওলট কম্বল, উস্তে, কুরদুস, উধেসলিব, ওন্নার, উটাঙ্গন, একাঙ্গি, লতাকুস্তুরি, শিমুলমূল, সোনাপাতা, মুরমাক্ষী, রক্তদ্রোন, সমুদ্র ফেনা, হরিতকি, হরিণের পিত্ত, লোহজারণ, স্বর্ণমাক্ষী, তামাজারণ, অভ্রুজারণ, কাজ্জলীজারণ, মুক্তা, দস্তা, প্রবালজারণ, নিমবীজ, নিমতৈল, পদ্মমধু, বিষমধু, ষষ্ঠীমধু, পুষ্টিগোটা, বকুলগোটা, বিজবন্দ, বিজকারক, বনজৈন, বহেড়া, বাঘের তেল, বাঘের চামড়া, বাঘের হাড়, বাঘের দুধ, বাসকপাতা, বাবলাছাল, ভূজকিদানা, ভাংপাতা, ভেরনবীজ, মোথা, ময়ুরপাখা, ময়ুরপুচ্ছ, মারজান, হযরত পাথর, মুক্তাদানা, মুক্তাজারণ, তুলসী, বিভিন্ন ধরনের সিন্দুর, চন্দনবীজ, চন্দনগুঁড়া, দেশি-বিদেশি কর্পূর, শালপানি, জয়তুন তেল, তামার পয়সা, দেশি-বিদেশি নীল, নাগেশ্বর ফুল, ঝিল্লি, চামড়া, হরিটনিক, সাকোস মাছের কাটা, ভারতের জান্দেবেদস্তা, সম্ভেলতিফ, কোরাসিয়া, মুরা মাংসি, অশোক ছাল, অর্জুন, অশ্বগন্ধ, দেশি-বিদেশি আমলকি, দেশি-বিদেশি অজৈইন, আফিম, আমের বিচ, বিভিন্ন ধরনের ধুপ, কোয়াসিয়া, কাঞ্চন অয়েল, কুশুম দানা, কায়াবতি তেল, কডলিভার তেল ইত্যাদি।

চিটাগাং শহরের যে কোন জায়গা থেকে সিএনজিযোগে যেতে হবে বক্সিরহাট বিটে। তারপর যে কাউকে জিজ্ঞেস করলে দেখিয়ে দিবে।

প্রশ্ন হতে পারে একটা দোকান কেমনে ট্যুরিষ্ট স্পট হয়। না এটি তা নয়। তবে একজন ট্রাভেলার জন্মগতভাবে কিউরিয়াস হয়ে থাকে। অনেক কিউরিউসিটির উত্তর এ দোকানে মিলবে।

Leave a Reply