নিষিদ্ধ পিরানহা মাছ অবাধে বিক্রি হচ্ছে রৌমারীতে

0
747

এজি লাভলু: কুড়িগ্রামের রৌমারী
উপজেলার বিভিন্ন বাজারে অবাধে বিক্রি হচ্ছে নিষিদ্ধ পিরানহা
মাছ। কিছু অসাধু মাছ ব্যবসায়ী রূপচাঁদা মাছ বলে তা
ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করছেন। সম্প্রতি রৌমারীর বিভিন্ন
বাজারে খোঁজ নিয়ে এ তথ্য জানা গেছে।
এদিকে রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দীপঙ্কর
রায় বাজারে পিরানহা মাছের বিক্রির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, বিষয়টি জানার পর ইতোমধ্যে বাজারে অভিযান
পরিচালনা শুরু করেছেন।
সম্প্রতি রৌমারীর কর্তিমারী বাজারে গিয়ে দেখা যায়,
সেখানে রূপচাঁদা মাছের নাম করে নিষিদ্ধ পিরানহা মাছ বিক্রি
হচ্ছে। আব্দুল হালিম নামে এক মাছ বিক্রেতা জানান, জামালপুরের
মাছ ব্যাপারী চাঁদ মিয়া নিয়মিত প্রায় দুইশ’ কেজি করে
পিরানহা মাছ রৌমারীর যাদুরচর ইউনিয়নের শিবেরডাঙ্গি এলাকায়
এনে বিক্রি করেন। খুচরা বিক্রেতারা সেসব মাছ কিনে নিয়ে
উপজেলার বিভিন্ন বাজারে ভোক্তাদের কাছে বিক্রি করেন।
পিরানহা মাছ চাষ ও বিক্রি নিষিদ্ধ, বিষয়টি জানা নেই জানিয়ে
এ মাছ বিক্রেতা বলেন, ‘আমি মূর্খ মানুষ, এসব মাছ যে
নিষিদ্ধ তা জানি না। আপনি কইলেন নিষিদ্ধ, আর কোনও দিন
বিক্রি করুম না।’
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চাঁদ মিয়া নামে এক মাছ ব্যবসায়ী
জামালপুরের শেরপুর এলাকার কালিবাড়ী নামক স্থান থেকে নিয়মিত
পিরানহা মাছ নিয়ে এসে রৌমারীর বিভিন্ন বাজারের মাছ
ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করেন। ওই বিক্রেতারা রূপচাঁদা মাছের
নাম করে তা ভোক্কাদের কাছে বিক্রি করেন।
এছাড়াও উপজেলার যাদুরচর ইউনিয়ন পরিষদের একটি পুকুর লিজ
নিয়ে মোস্তফা নামে এক মৎস্যচাষী সেখানে পিরানহা মাছ চাষ
করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে উপজেলার

বিভিন্ন পুকুরে এ মাছের চাষ করছেন বলে জানান রফিকুল নামে
এক মাছ বিক্রেতা। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে লিজ নেওয়া ওই পুকুরে
পিরানহা মাছ চাষ করা হচ্ছে বলে নিশ্চিত করেছেন আরও বেশ
কয়েকজন মাছ বিক্রেতা।
ইউনিয়ন পরিষদ থেকে লিজ নেওয়া পুকুরে হচ্ছে পিরানহা মাছের
চাষতবে পিরানহা মাছ চাষের কথা স্বীকার করলেও বর্তমানে তা আর
পুকুরে নেই বলে জানান মৎস্যচাষী মোস্তফা। তিনি বলেন, ‘আগে
কিছু পিরানহা চাষ করলেও নিষিদ্ধ হওয়ায় তা এখন তুলে ফেলেছি।’
এ বিষয়ে জানতে যাদুরচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ
সরবেশ আলীর মোবাইল ফোনে কল দিলে তার নম্বর বন্ধ পাওয়া গেছে।
উপজেলার বাজারে পিরানহা মাছ বিক্রির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন
রৌমারী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আমিনুর রহমান। তিনি বলেন,
আমরা ইতোমধ্যে বাজারে অভিযান পরিচালনা শুরু করেছি। গত ২
জুলাই রৌমারী বাজার থেকে ২০ কেজি পিরানহা মাছ জব্দ করা
হয়েছে বলেও জানান তিনি। তবে উপজেলায় এ মাছ চাষের বিষয়টি
নাকচ করেন এই মৎস্য কর্মকর্তা।
পিরানহা মাছ চাষ ও বিক্রি সম্পর্কে জানতে চাইলে জেলা মৎস্য
কর্মকর্তা মোঃ জিল্লুর রহমান বলেন, ‘পিরানহা মাছ চাষ,
পরিবহন ও বিক্রি সরকার নিষিদ্ধ কয়েছে। এরপরও যদি কেউ এই মাছ
চাষ কিংবা বিক্রি করেন তাহলে তিনি অপরাধ করছেন এবং তিনি
শাস্তির আওতায় আসবেন। আমি বিষয়টি নিয়ে উপজেলা মৎস্য
কর্মকর্তাকে ব্যবস্থা নিতে বলবো।
এক প্রশ্নের জবাবে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বলেন, ‘রৌমারী
এমনিতেই বন্যাপ্রবণ এলাকা। পুকুরে এই মাছ চাষ হয়ে থাকলে তা
যদি একবার আমাদের নদী নালা কিংবা জলাশয়ে প্রবেশ করে, তাহলে
আমাদের জলজ বাস্তুসংস্থান মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে।
রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দীপঙ্কর রায় বলেন,
‘আমি বিষয়টি নিয়ে খোঁজ নিচ্ছি। উপজেলার কোথাও এ মাছ
চাষ হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট চাষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

উল্লেখ্য, দক্ষিণ আমেরিকার আমাজন এলাকার রাক্ষুসে মাছ
পিরানহা। হাঙ্গরের ন্যায় দাঁত বিশিষ্ট অত্যন্ত আক্রমণাত্মক এ মাছ
জলজ পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত করার পাশাপাশি মানুষকেও আক্রমণ করতে
পারে। এরা দলবদ্ধ আক্রমণ নিমিষেই মানুষের প্রাণ কেড়ে নিতে
সক্ষম।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে