গোদাগাড়ীর ফরজান হত্যায় গ্রেপ্তার ৩ জনরিমান্ডে

0
726

শাহীন আলন: রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে শ্বশুড়বাড়ী এলাকা হতে বৃদ্ধ ফরজান
আলী (৬৫)’র গাছের সঙ্গে ঝুলানো অবস্থায় মৃতদেহ
উদ্ধারের ঘটনায় গোদাগাড়ী মডেল থানায় একটি
হত্যা মমলা দায়ের হয়েছে। গত ১২ জুন বুধবার মৃত
ফরজান আলীর ছেলে আব্দুল হাকিম বাদী হয়ে তার
সৎ মা অর্থাৎ ফরজান আলীর দ্বিতীয় স্ত্রী পলিকে ১
নং আসামী করে মোট ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা
দায়ের করেছে।
লাশ উদ্ধারের দিনই পুলিশ মৃত ফরজান আলীর স্ত্রী
পলি, পলির মা পুতুল ও পলির ভাবিকে
জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে। গত ১৬ জুন বাদীর
পক্ষ হতে রাজশাহীর আদালতে জিজ্ঞাসাবাদের
জন্য আবেদন করলে আদালত দুই দিনের আবেদন মঞ্জুর
করে।
গোদাগাগাড়ী মডেল থানার ওসি মোঃ জাহাঙ্গীর
আলম হত্যা মামলার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন,
আদালত তিন আসামীর রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আমরা
তাদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করেছি তবে তাদের
কাছ হতে তেমন কোন নতুন তথ্যা বের করতে পারিনি।
ওসি তিন আসামীর বরাদ দিয়ে বলেন, তারা
জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, মৃত ফরজান আলী সন্ধ্যার
পরপরই আমাদের বাড়ী হতে বের হয়ে গেছে।
আশেপাশেল লোকজনও তাকে দেখেছে তার পর আর
ফিরে নি পরদিন সকালে আমরাও লাশের খবর পেয়ে
বিষয়টি জানতে পেরেছি। ওসি আরো বলেন, তারা
সকলেই মহিলা মানুষ হওয়ায় তেমন কথা বলতে চাইছে
না। তবে আমরা এখনো মৃত ফরজান আলীর ময়না
তদন্তের রিপোর্ট এখনো হাতে পাইনি । সেটি পেলে
তদন্তের কাজে আরো অগ্রহতি হবে বলে জানান।
এদিকে ফরজান আলীর গাছের সঙ্গে ঝুলানো
রহস্যজনক মৃত্যু নিয়ে মামলার অন্য আসামীদের ধরতে
পুলিশ গড়িমসি করছে বলে মামলারবাদীসহ তাদের
আত্নীয় স্বজনরা অভিযোগ তুলেছে।
মামলারবাদী মৃত ফরজান আলীর ছেলে আব্দুল হাকিম
বলেন, আমার সৎ মা পলি (৩৮), পলির বাবা আল্লাম
(৫৫), পলির ভাই পলাশ (২৮) ও তৌফিক ওরফে দেঘেল
(২৫) পলির মা পুতুল (৫০), পলির ভাবি জান্নাতুল (২০)
পলির ফুফাতো ভাই সোহেল (২৯) পলির দুলাভাই তুকা
(২০), পলির ভাগ্নি আসমা (২৪), পলির ভাগ্নি জামাই
ইসমাইল (২৭), ও কুরবান তারা যোগসাজস করে ফরজান
আলীর স্ত্রী পলির নামে ২ বিঘা জমি রেজিঃ করে
নেবার জন্য বিভিন্ন ভাবে চাপ প্রয়োগ করতে থাকে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফরজান আলীর স্ত্রী পলি ২
মাস পূর্বে থেকে তার নিজের বাপের বাড়ী চলে
আসে। ফরজান আলী গত ৯ জুন সকালে স্ত্রী পলির
সাথে দেখা করার জন্য যায়।
পরদিন ভোর ৫ টার দিকে আশেপাশের লোকজন
মোবাইল ফোনে ফরজান আলীর ছেলে আব্দুল হাকিম
কে মোবাইল ফোনে ফরজান আলীর মৃত দেহ
হরিশংকরপুর প্রতিভা উচ্চ বিদ্যালয়ের উত্তর দিকে
জনৈক জহুরুল এর বাগানে আম গাছে ঝুুলে আছে বলে
জানতে পারে। পরে পুলিশ কে খবর দিলে পুলিশ লাশ
উদ্ধার করে। আব্দুল হাকিম অভিযোগ করেন তারা
সকলেই সম্পত্তির লোভে আমার পিতাকে আমার সৎ
মা পলি, পলির বাবা আল্লাম পলির ভাই পলাশ ও
দেঘেল ও পলির মা পুতুল মারপিট ও শ্বাসরুদ্ধ করে
হত্যা করে ঘটনাস্থলে গিয়ে গাছে মৃত দেহ আটকিয়ে
রাখে। তারা এটিকে আত্নহত্যা বলে প্রচার করে
ভিন্নখাতে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে। তার
শরীরে আঘাতের চিহৃ পাওয়া গেছে সেই সাথে
শরীরের কাঁদা মাখা ও মাটিতে পা লেগে ছিলো।
যদি আত্নহত্যাই হয় তাহলে শরীরে আঘাতের চিহৃ ও
ঝুলন্ত মৃত দেহ কেন মাটিতে লেগে থাকবে বলে প্রশ্ন
তুলেন।
এদিকে মামলার বাদী পক্ষ আরো অভিযোগ তুলেন,
তারা ওই এলাকার প্রভাবশালী ও অর্থবান হওয়ার
কারণে পুলিশ ঠিক মত আসামী ধরছে না । পুলিশ ও
প্রথামে মামলা নিতে অনেক গড়িমসি করে বলে
জানান। এদিকে এজাহার ভূক্তআসামী এলাকায় ঘুরে
বেরিয়ে বলছে এসব মামলা খেয়ে নেওয়া কোন
ব্যাপারই না । পুলিশ ও আসামীদের এমন আচরণে
মামলারবাদী পক্ষ সঠিক বিচার পাওয়া নিয়ে
শঙ্কিত রয়েছেন।
গোদাগাড়ী মডেল থানার ওসি মোঃ জাহাঙ্গীর আলম
বলেন, থানায় মামলা দায়ের হয়েছে । তিনজন
আসামীকে জিজ্ঞাসবাদ চলছে। ময়না তদন্ত রিপোর্ট
হাতে পেলে মামলার তদন্তকাজের গতি বাড়বে এবং
বাকী আসামীদের ধরতে সুবিধা হবে বলে জানান।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে