ফরিদগঞ্জ মামলা বাজ জামাল খানের অত্যাচারে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী

0
689

মোঃ হুমায়ুন ভূঁইয়া ফরিদগঞ্জ প্রতিনিধি: ফরিদগঞ্জে একনামে পরিচিত মামলা বাজ জামাল খানের কারেন অতিষ্ঠ এলাবাসী। বাধ যায়নি হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনও। এই মামলা বাজ থেকে রক্ষা পেতে আদালত, ইউনিয়ন চেয়ারম্যানও মেম্বারদের ধারে ধারে গুরতে গুরতে হতাস হয়ে পড়েছেন মামলায় ক্ষতিগ্রস্থ এলাকার লোকজন। চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের দাবি, কারর কোন কথা শুনেনা এই মামলা বাজ জামাল খান। তাকে একাদিক বার পরিষদ থেকে নোটিশ করা হলেও নোটিশের কোন জবাব পাওয়া যায়নী। এলাবাসির দাবি, আমরা কিভাবে এই সকল মামলা থেকে রক্ষা পেতে পারি বুজি উঠে পারতেছিনা। আর কত কাল এ মামলা পেছনে ছুটতে হবে এমটা দাবি এলাকাবাসীর।
সরজমিনে গিয়ে জানাযায়, উপজেলার ৮নং পাইকপাড়া দক্ষিন ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড়ে খুরুম খালী গ্রামের বাসিন্দা জামাল খান। পৈত্রিক সম্পতি তেমন ছিল না, পিতা ছিল একজন কৃষক, কৃষি কাজ করে জীবিকা নির্ভাহ করতেন তারা। চার ভাইয়ের মধ্যে বড় ভাই জহিরুল হক খান লেখা পড়া শেষ করে চাকরি করতেন সরকারী উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা হিসাবে। চাকরি টাকা দিয়ে সংসারে হাল ধরেন জহিরুল হক খান। তার জীবন ধসায় যে সকল জমি ক্রয় করেছেন তাও চার ভাইয়ের নামে। জহিরুল হক খানের ছোট ভাই হলেন জামাল খান। গ্রামের বাড়িতে জামাল খান একাই থাকতেন তার বাকি ভাইয়েরা জীবন নির্বাহের জন্য ঢাকায় থাকতেন। এসুযোগ কাজে লাগিয়ে জামাল খান কৌশলে ৮৪ বছর বয়সী বৃদ্ধ বাবাকে দিয়ে গোপনে দলিল করে নিয়ে নেয় সকল সম্পতি। প্রর্যায় ক্রমে গ্রাস করতে থাকেন ভাইদের সম্পতিও। বড় জহিরুল হক খান তখন সরকারে উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা হিসাবে কর্মরত থাকায় তার ক্রয় কৃত সম্পতি দখলের চেষ্ঠা করে ব্যার্থ হন। বাকি দুই ভাই আহসান হাবিব দেলু ও এনামুল হক খান বাচ্চু জমি দখল করে অন্যত্রে বিক্রয় করে পেলে মামলা বাজ জামাল খান।
পরে স্থানী এলাবাসির চাপে দুই ভাইয়ের আংশিক জমি ফেরত দিতে বাধ্য হন তিনি। সম্পতি লোভে পড়ে মামলা করতে করতে অবস্থ হয়ে পড়েছেন জামাল খান। একে এক সকল সম্পতি বিক্রয় করতে শুরু করেন। তার বড় ভাইয়ে ছেলে মাহাবুুবুল খান রনির কাছে। জামাল খানের ঘর ভিটা ৫শতক ছাড়া আর কিছু নেই বলে যানিয়েছেন এলাবাসি।
আরো যানাযায়, সাম্প্রতিক ঘর ভিটা ৫শতক বিক্রয়ের জন্য রনি খানের কাছ থেকে বায়না চুক্তি দলিল মূলে ৫লক্ষ টাকা নিয়েছে জামাল খান। কিন্তু জমির টাকা নেওয়ার পর জমি রেজিষ্ট্রি দিতে তাল বাহানা করছে জামাল খান। এদিকে কয়েকটি হিন্দু সম্প্রদাদের জমি জাল দলিলের মধ্যে দিয়ে পুকুরে জমি দখল করেছে। দখল কৃত জমি আবার তাদের কাছে বিক্রয় করে। জমি ক্রয় না করলে রাস্তা বন্ধ করে দিবে বলে হুমকি দিয়ে থাকে বলে জানিয়েছেন হিন্দু সংখ্যলঘু পরিবার গুলো। বাধ্য হয়ে তার কাছ থেকে ৫শতক জমি ক্রয় করতে হয়েছে।
এবিষয়ে হিন্দু সংখ্যলঘু পরিবারে লোকজন বলারাম দাস, দিলিপ চন্দ্র দাস, অর্জুন চন্দ্র দাস, প্রান কৃষ্ণ দাস বলেন, জামাল খানের অত্যাচারে কারনে আমার অতিষ্টি হয়ে পড়েছি। সে আমাদের জমি দখল করে আবার আমাদের কাছে বিক্রয় করে থাকে। না ক্রয় করলে মামলা দিয়ে হয়রানির হুমকি দিয়ে থাকে। কি করবো দাদা?
২নং ওয়ার্ড়ে ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম খান বলেন, জামাল খান দীর্ঘদিনধরে এলাকার মানুষ কে মামলা দিয়ে আসছে। কেউ কোন কথা বললে মামলার হুমুকি দিয়ে থাকে। আমরা জামলা খানকে বহুবার বুজিয়েছি। যে আপনার কি কাগজ আছে আমাদের কাছে দেন আমরা তা সমাধার করে দেব । তিনি বলেন যা হবে, তা আদালতে হবে। কি করবো ভাই যানিনা। অপর প্রশ্নের জবাবে বলেন, জামাল খানের বসঘর বিক্রয় করবে বলে আমার হাত দিয়ে ৫লক্ষ টাকা দিয়ে বায়না চুক্তি দলিল সম্পাদন করেছি। কিন্তু এখন রেজিষ্ট্রি কথা বললে বিভিন্ন অজুহাত দেখায়। কয়েক দিন পূর্বে থানা পুলিশের মাধ্যেমে জানতে পারি, যে জামাল খান বাড়ির আশে পাশের জমি উপরে আদালত থেকে স্থিতি আবস্থা জারি করেছে। তার নিজের কোন সম্পতি নেই। জাল দলিলের মাধ্যেমে সে আদালতের থেকে (১৪৪ ধারা) মানে স্থিতি অবস্থা জারি করেছে। কি করার আছে আমাদের।
জামাল খানের ভাই আহসান হাবিব দেলু বলেন, আমাদের যে সকল জমি জামাল খান আমার বড় ভাইয়ের ছেলে রনি খানের কাছে বিক্রয় করেছিল। সেই জমির বিরোদ্ধে জামাল খান আদালতে স্থিতি আবস্থা জারি করেছে। ঐ স্থানের জমি অনেক আগে রনি খানের কাছে বিক্রয় করে দিয়েছে সে।
আরেক ভাই এনামুল হক খান বাচ্চু বলেন, আমাকে ও আমার পরিবারে সদস্যদের কে হয়রানি করার উদ্দ্যেশে জামাল খান বার বার মামলা দিয়ে আসছে।
আরো বলেন, এই জামাল খানের অভিযোগ মিথ্যা প্রমানীত হওয়া সে ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশের ওসি শাহাজান এর বিরোদ্ধে ও হয়রানী মূলক মামলা করেছিলেন। ঐ মামলা বেশি দিন স্থায়ী হয়নি।
এবিষয়ে জামাল খান বলেন, আমি প্রকৃত জমির মালিক, তাই মামলা দায়ের করেছি। আদালত তার বিচার করবে।
এবিষয়ে মাহাবুবুল হক খান রনি বলেন, আমাদের পরিবারে কোন সদ্যস গ্রামের বাড়িতে না থাকায় জামাল খান জমি দখল করে, আমাদের কে বার বার মামলা দিয়ে হয়রানী করছে। আমি জমি ক্রয় করে বরাট করে, বাড়ির সামনে স্কুল, মসজিদ ও মাদ্রসা স্থাপন করেছি। জামাল খান গোপনে স্কুলের জমিও দখল চেষ্ঠা করেছিল কিন্তু সম্ভাব হয়ে উঠেনি।
বর্তামানে আমি বাড়ির পাশে এলাকার কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষে একটি ডেইরি ফার্ম করার জন্য আমার ক্রয় কৃত একটি জমি ভরাট করতে ছিলাম। কিন্তু ঐজমিতে মালিকানা না থাকলেও সে জোর পূর্বক মামলা দিয়ে বাধা সৃষ্টি করছে। আমি চাই এই মামলা বাজ জামাল খান বিরোদ্ধে প্রশাসন প্রয়োজনী ব্যবস্থা গ্রহন করবে।
ইউপি চেয়ারম্যান শওকত বিএসসি বলেন, এলাকার সংখ্যালঘু পরিবার গুলোকে হয়রানি না করার জন্য জামাল খানকে বহুবার পরিষদ থেকে নোটিস প্রদান করা হয়েছে। কিন্ত্র সে নোটিসের কোন উত্তর দেয়নি। সে প্রকৃত একজন চিহ্নিত মামলা বাজ।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে