জলাবদ্ধতা নিরসনকল্পে সিডিএ ও চসিক বৈঠক অনুষ্ঠিত সমন্বিত উদ্যোগের উপর গুরুত্বারোপ করলেন মেয়র

0
676

বৃহস্পতিবার দুপুরে সিডিএ কনফারেন্স হলে নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্প সহ অন্যান্য উন্নয়ন প্রকল্প বিষয়ে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আলহাজ্ব আ.জ.ম.নাছির উদ্দীন ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান আলহাজ্ব এম জহিরুল আলম দোভাষ উপস্থিত ছিলেন। এসময় চসিক কাউন্সিলর, সিডিএর বোর্ড সদস্য কাউন্সিলর হাসান মুরাদ বিপ্লব, গিয়াস উদ্দিন আহমদ, তারেক সোলায়মান সেলিম, জসিম উদ্দিন শাহ, চসিক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহা, প্রধান প্রকৌশলী লে.কর্ণেল মহিউদ্দিন আহমেদ, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম মানিক এবং সিডিএর সচিব তাহেরা ফেরদৌস বেগম,প্রধান প্রকৌশলী কাজী হাসান বিন শামস্, চিফ টাউন প্লানার শাহিনুল ইসলাম খান, এলিভেট এক্সপ্রেসের প্রকল্প পরিচালক মাহফুজুর রহমান এবং প্রকৌশলী দেলোয়ার হোসেন মজুমদার বক্তব্য রাখেন। এসময় চসিক তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সালেহ আহমদ,কামরুল ইসলাম,নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সাদাত মো. তৈয়ব, জসিম উদ্দিন এবং সিডিএ তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান ,উপ সচিব অমল গুহসহ সিডিএ এর বোর্ড সদস্যগণ উপস্থিত ছিলেন। সভায় জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পে দ্বৈততা পরিহার ও সমন্বয় করার উপর সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। এই দ্বৈততা কাজগুলোর মধ্যে নগরীর মরিয়ম বিবি খাল,মহেষখাল,প্রবত্যক মোড় ব্রিজ,সমশের পাড়া হাজিার পুল সহ অন্যান্য অংশ রয়েছে।

এই প্রকল্পের দ্বৈতা দর করনের জন্য আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে যৌক্তিক প্রস্তাবনা প্রস্তুত করার জন্য চসিক প্রধান প্রকৌশলী ও সিডিএ এর প্রধান প্রকৌশলীকে দায়িত্ব দেয়া হয়। সভায় চসিক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে চসিক কাউন্সিলরদের সম্পৃক্ততা করায় সিডিএ চেয়ারম্যানসহ প্রকল্প পরিচালককে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন সামনে বর্যার মৌসুম। জনদুর্ভোগ ও জলবদ্ধতার প্রকোপ যত কমিয়ে আনা যায় সেদিকে লক্ষ রেখে চট্টগ্রামের সকল জনপ্রতিনিধি সাথে জলবদ্ধতা নিরসনে মতামত নেয়া এবং গ্রহন করায় ভাল হয়েছে। এতে দু’প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কাজের সমন্বয় হবে বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন কাউন্সিলররা এলাকায় থাকেন। এলাকার সমস্যা সম্পর্কে তারাই বেশী ওয়াকিবহাল। তাদের মাধ্যমে নালা -নর্দমাগুলো পরিস্কার করা গেলে জলাবদ্ধতায় জনদুর্ভোগ সহনীয় পর্যায়ে রাখা সম্ভব হবে বলে মেয়র মতামত ব্যক্ত করেন। জলবদ্ধতা নিরসন প্রসংগে সিটি মেয়র বলেন চট্টগ্রামের উন্নয়ন ও জলাবদ্ধতা নিরসনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আন্তরিকতার অভাব নেই। তারই ধারাবাহিকতায় চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে সরকার ২০১৭ সালে চারটি প্রকল্পে ১০ হাজার ৪৯২ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। এর মধ্যে সিডিএ বাস্তবায়ন করছে ৭ হাজার ৬১৬ কোটি টাকার দুটি প্রকল্প। আর পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ১ হাজার ৬২০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব পেয়েছে। এছাড়া চসিক ১হাজার ২৫৬ কোটি বারইপাড়া থেকে কর্ণফুলী খাল খননের দায়িত্ব পেয়েছে। এসব প্রকল্পে নালা-নর্দমা ও খালের পুনঃখনন, বাঁধ নির্মাণ, জোয়ার প্রতিরোধক ফটক, খালের দুই পাশে প্রতিরোধ দেয়াল, সেতু ও কালভার্ট নির্মাণ এবং বালুর ফাঁদ নির্মাণের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তবে চসিকের এ প্রকল্পটি নতুন খাল খনন এর জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে। মেয়র বলেন,জলাবদ্ধতার সমস্যা সমাধানের জন্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, চট্টগ্রাম ওয়াসা, পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সব সেবা সংস্থাকে সমন্বিতভাবে উদ্যোগ নিতে হবে। ইতোমধ্যে এই প্রকল্পের মেয়াদ দেড় বছর অতিবাহিত হয়েছে আগামী জুন ২০২০ এই প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হবে। এই সময়ের মধ্যে পুরো প্রকল্প বাস্তবায়ন করা তাদের পক্ষে অসম্ভব এবং এই কাজে আর কোন সময় নষ্ট করার সুযোগ নেই। তিনি বলেন, সমন্বয় করে এই নগরের যাবতীয় উন্নয়ন করতে হবে। চসিক এবং সিডিএ দু’টিই সরকারী প্রতিষ্ঠান ।আমরা যারা এই প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে আছি তারা শুধুমাত্র দায়িত্বপালন করে চলেছি। প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে সরকার। এই প্রকল্প যাতে টেকসই হয়, নগরবাসীর মধ্যে স্বস্থি ও সুফল বয়ে আনতে পারে সে ব্যাপারে আমাদেরকে লক্ষ্য রাখতে হবে। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চট্টগ্রামকে একটি বাসযোগ্য ও আধুনিক নগর হিসেবে গড়ে তুলতে মাননীয় প্রাধামন্ত্রীর সদিচ্ছার কোন ঘাটতি নেই। তাই এই আন্তরিকতার যথাযথ মর্যাদা দিতে হবে। সফলভাবে প্রকল্প বাস্তবায়নে চসিক এলাকায় সমস্ত উন্নয়ন কর্মকান্ডে সমন্বয়ের যে ভার চসিকের উপর অর্পিত হয়েছে তা পালন করতে চসিক শতভাব আন্তরিক।
অনুষ্ঠানে সিডিএ এর চেয়ারম্যান আলহাজ্ব এম জহিরুল আলম দোভাষ বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পটি সিডিএ এর আওতাধীন আসা ঠিক হয়নি । এই ব্যাপারে সিডিএ এর কোন পূর্ব অভিজ্ঞতা নেই বল্লেই চলে। অপরদিকে সিটি কর্পোরেশনের জলাবদ্ধতা নিরসনে পূর্ব অভিজ্ঞতা রয়েছে। রয়েছে পূর্ব অভিজ্ঞাতা, যন্ত্রপাতি ও পর্যাপ্ত জনবল। তাই চসিককে দিয়েই এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা গেলে অনেক সুফল বয়ে আসত বলে তিনি মন্তব্য করেন। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন গত দেড় বছরে জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের যতটুকু অগ্রগতি হওয়ার দরকার ছিল ততটুকু হয়নি। এই প্রকল্প কিভাবে সফল করা যায় চসিক,সিডিএ সহ নগরীর সংম্পৃক্ত সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠানকে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানোর উপর গুরুত্বারোপ করেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে