এটাকে নিছকই একটা লেখা ভেবে সকলে পড়বেন :-

0
683
সুজাতা দাস (কোলকাতা)

এটাকে নিছকই একটা লেখা ভেবে সকলে পড়বেন :-

সুজাতা দাস (কোলকাতা)

রবিবাবু আজ তোমার জন্মদিন দিকে দিকে পালিত হচ্ছে,মনে মনে আমিও তোমাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছি-
আমি চাই পৃথিবীর সব থেকে দুর্দিনেও তোমাকে সবাই মনে রাখুন-
কিন্তু আজ আমি তোমাকে একটা প্রশ্ন করতে চাই-
যা হয়তো আপামর মানব জাতির প্রশ্ন-
হয়তো এক নারী হয়ে আরেক নারীকে খুঁজে দেখা-
একটা প্রশ্ন ছিল রবিবাবু:-
সুজাতা দাস:-

রবিবাবু তুমি কি ভালোবাসতে কাদম্বরীকে-
যে ছিল তোমার নতুন বৌঠান;ছিল তোমার সহচরী-
ছিল প্রেরণা তোমার- ছিল সৃষ্টির রূপকার-
আচ্ছা রবিবাবু-সকলে বলে ব্যথা না থাকলে লেখা যায় না !! সত্যিই কী তাই?
সত্যি কী ছিল না পাওয়ার অনেক ব্যথা কাদম্বরীর?
যা তুমি দেখেছিলে হয়তো –
হয়তো উপলব্ধিও করেছিলে নিজের অন্তর দিয়ে-
তাই কী ছিল নতুন বৌঠান তোমার প্রেরনা?
যে ছিল ঠাকুর বাড়ির এক সামান্য কর্মচারীর মেয়ে; তার স্থান হলো অন্দর মহলে জ্যোতিরিন্দ্র নাথের স্ত্রী হিসেবে-
মানতে হয়তো কষ্ট হয়েছিল অনেকেরই-
কেমন করে ছোট্ট রবির নতুন বৌঠানের সাথে সখ্যতা গড়ে উঠেছিল তা হয়তো অতীতই ঠিক করেছিল ভবিষ্যতের দিক নির্দেশ করতে-
দুটি প্রায় সমবয়সী মানুষের সখ্যতা গড়ে উঠতে কোনও বিশেষ কারন লাগেনা,এখানেও লাগেনি-
তবুও একে অপরের নির্ভরতা হয়ে উঠেছিলেন দুজনেই অদ্ভুত ভাবে-
তবে রবির লেখা তাঁকে আকৃষ্ট করেছিল নিশ্চয়ই সেটা যেমন (জল পড়ে পাতা নড়ে ) হোক্ বা (ভানুসিংহের পদাবলী) সমান আকৃষ্ট হতেন-
পড়ে বিশ্লেষণ করতেন;কোথায় কি বাদ যাচ্ছে বা লেখায় ভাব ঠিক না থাকলে সেটাও বলতেন তার প্রিয় রবি কে-
পরিপূরক ছিলেন একে অন্যের অলিখিত ভাবে-
ভালোলাগা মন্দলাগার অভিব্যক্তি ছিল দুজনেরই মধ্যে-
ছিল বাচ্চা সুলভ খুনসুটি আর অভিমান-
ছিল হয়তো এক নাম না জানা ভালোবাসা যা অনুভূতিতেই বিরাজমান দুজনেইর শ্রদ্ধাতে-
যদি সত্যিই ভালোবাসা ছিল!!তাহলে অকালে চলে যেতে হলো কেন তাঁকে-রবিবাবু?
কেন পারনি আটকাতে-যে বন্ধুত্ব আর সাহচর্য দিয়েছিল সে তোমায়,তোমাকে এগিয়ে দিতে বিশ্ব দরবারে-
যার প্রেরণা আর সাহচর্যে সৃষ্টি হয়েছিল ভানুসিংহের পদাবলী থেকে শুরু অনন্য সৃষ্টিগাঁথা-
তাঁকে কেন পেতে হয়েছিল অপমান আর অবহেলা-যা তাঁর প্রাপ্য ছিলনা কখনই-
আসলে তুমিও জানতে পারনি ভালোবাসার নানা রূপকে- শুধু বন্ধুত্বই ছিলনা – তার সাথে ছিল এক সুপ্ত সন্তান শ্নেহ;যা কারোরই চোখে পরেনি-
চোখে পরেছিল শুধু একজন নারী আর পুরুষ;যা আপামর সাধারণ মানুষ দেখে থাকে-
ঠাকুর বাড়িও তার বাইরে ছিল না -ছিলনা মানসিকতার পরিবর্তন-যা আজ আছে!!তা আগেও ছিল-মানুষের মানসিকতায়-তা হলো সন্দেহ-
যা একটা প্রাণকে কাড়তে সাহায্য করেছিল-
আজও সেই সুন্দর সম্পর্কের আলোচনা চলে অন্য অর্থ নিয়ে -শত বছর পেরিয়ে এসেও-
আজও কাদম্বরী একটা প্রশ্নচিহ্ন-যে হতে চেয়েছিলেন অনেক কিছু -কিন্তু সময় তার কাছ থেকে পুরোটাই কেড়ে নিয়েছেন-
ঠাকুর বাড়ির সামান্য কর্মচারীর মেয়ে কাদম্বরী – কিভাবে পেতে পারে ঠাকুরবাড়ির মর্যাদা- হতে পারেননি তাই রবির সহযাত্রী হয়ে ছিলেন অকাল মৃত্যু পথযাত্রী-
চলে গেলেন কাদম্বরী নিরবে-
আত্নঅভিমান ছিল তার মননে-
তাই নিঃশব্দে সরে যাওয়া-
পরবে না আর কখনও তার পদচিহ্ন ঠাকুর বাড়ির আনাচে কানাচে,যেখানে তার ছিল অবাধ বিচরণ-
তবুও থেকে গেছেন রবির অন্তরে আর আপামর জনসাধারণের মস্তিষ্কে-
হয়তো থেকে যাবেন আরও অনেক ব্যবচ্ছেদের জন্য-
যা বিলীন হয়েও কখনও বিলীন হবে না;
যুগ যুগ ধরে থেকে যাবেন আম জনতার মুখে মুখে-
থাকুন এভাবেই রবির নতুন বৌঠান রবির সাথে সাথে সকলের অন্তরে-
যখন পরবে না মোর পায়ের চিহ্ন এই বাটে
আমি বাইবো না,আমি বাইবো না মোর খেয়া তরি এই ঘাটে গো-

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে