যুগ যুগ ধরে লাঞ্ছিতা নারীরা

0
908

যুগ যুগ ধরে লাঞ্ছিতা নারীরা

সুজাতা দাস (কোলকাতা)

যেদিন দ্যূতকৃরায় হেরে যাওয়া দ্রৌপদীর
লাঞ্ছিত অপমানিত রজঃস্বলা শরীরটা;
কৌরবদের রাজসভায় এনে ফেলেছিলেন
গান্ধারী পুত্র দুঃশাসন——
সেদিন সভার সমস্ত রাজপুরুষরাই ছিলেন
নিশ্চুপ;রাজরোষ থেকে নিজেকে বাঁচাবার
প্রহসনে।
কোনও রক্ষার হাত উঠে আসেনি রক্ষার্থে
অলক্ষ্যে হেসেছিলেন প্রকৃতি হা হা রবে,তার
বন্ধ্যাত্বকে হয়তো বাহবা দিয়েছেন মনে মনে।।

যেদিন রাবণের গৃহ হতে ফিরে এসে দাঁড়িয়ে
ছিলেন শ্রী রাম চন্দ্রের সামনে;রাবণের গৃহে
বন্দি থাকার কারনে দিতে হয়েছিল মাতাসীতাকে
সাজানো অগ্নিকুন্ডে অগ্নিপরীক্ষা —–
সেদিনও দাঁড়ান সমস্ত রাজপুরুষরাই ছিলেন
নিশ্চুপ;রাজরোষ থেকে নিজেকে বাঁচাবার
প্রহসনে।
কোনও রক্ষার হাত উঠে আসেনি রক্ষার্থে ”
অলক্ষ্যে হেসেছিলেন প্রকৃতি হা হা রবে,তার
বন্ধ্যাত্বকে হয়তো বাহবা দিয়েছেন মনে মনে।।

যেদিন দেবরাজ ইন্দ্রের কামনায় দগ্ধ হয়ে অশুচি
হলেন অহল্যা;গৌতম ৠষীর শাপে হলেন পাষাণ;
হয়েছিলেন দোষী,সহস্রলোচন নামে খ্যাত”কিন্তু
অহল্যা দিয়েছিলেন পরীক্ষা সতীত্বের—–
সেদিনও দাঁড়ান সমস্ত রাজপুরুষরাই ছিলেন
নিশ্চুপ;অভিশাপ থেকে নিজেকে বাঁচাবার
প্রহসনে।
কোনও রক্ষার হাত উঠে আসেনি রক্ষার্থে ”
অলক্ষ্যে হেসেছিলেন প্রকৃতি হা হা রবে,তার
বন্ধ্যাত্বকে হয়তো বাহবা দিয়েছেন মনে মনে।।

আজ কয়েক যুগ পরেও লুণ্ঠিত হন নারীরা
এ যুগের রাবণের হাতে,লুণ্ঠিত নারীস্বত্তা;
নির্বস্ত হয়ে লুণ্ঠিত হয় অন্য পুরুষের সামনে
দিতে হয় পরীক্ষা নারীত্বের—–
আজও রাজপুরুষরাই থাকেন নিশ্চুপ বসে
কিছু প্রহসনের পরে নিজেদের বাঁচাবার জন্য
প্রহসনে।
কোনও রক্ষার হাত উঠে আসেনি রক্ষার্থে ”
আজও হা হা রবে হেসে ওঠেন প্রকৃতি,নিজের
বন্ধ্যাত্বকে দেন বাহবা তারস্বরে চিৎকার করে।।

কেঁদে ওঠেন প্রকৃতি অসহ্য যাতনায় চিৎকার
করে;যখন আপন শরীরকে নিজের চোখের
সামনে,
হতে দেখেন ভূলুন্ঠিত ছিন্নভিন্ন রক্তাক্ত এক
মাংস পিন্ডের আকারে;বিভৎসতায় চিৎকার
করে কেঁদে ওঠেন আদি অন্ত কাল ধরে হয়ে
আসা অবিচার দেখে;ধিক্কার দেন হয়তো মনে মনে
নিজের স্ত্রী রূপ দেখে অলক্ষ্যে।।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে