কমলনগরে পিটিয়ে ব্যবসায়ীকে জখম এর অভিযো

0
695

লক্ষীপুর প্রতিনিধি:  লক্ষীপুরের কমলনগর উপজেলার ফাজিল মিঞার হাটের ব্যবসায়ী ও শাহে আলমের ছেলে আনোয়ার হোসেন (২৯) একই এলাকার মৃত হোসেন আহমেদের ছেলে মাস্টার ফার্মেসির কর্ণধার মুরাদ হোসেন তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মারধোর করেন। এতে আনোয়ার হোসেন রক্তাক্ত আহত হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে বলে ভুক্তভোগী জানিয়েছেন। যার ভর্তি রেজিস্ট্রেশন নং 50 36 /25.

ঘটনার বিবরণে জানা গেছে আনোয়ার হোসেনের কাছ থেকে বিভিন্ন সময় মুরাদ (৪০) মৃত বন্ধু হাজির ছেলে আব্দুর রহমান সাজু (২৫) ৫০ হাজার টাকা থেকে ২লাখ টাকা পর্যন্ত ধারদেনা করেন। ঘটনার সময়ও আনোয়ার হোসেন মুরাদ এর কাছ থেকে ৫০হাজার, আনোয়ার হোসেন সাজুর কাছে থেকে ৬০হাজার টাকা পাওনা ছিলেন। সময় মত টাকা না দেয়ায়, তালবাহানা করে এমনকি কয়েক তারিখ যাওয়ার পর এই নিয়ে মনোমালিন্য ও কথা কাটাকাটি হয়।

এ নিয়ে গত সোমবার দুপুরের দিকে আনোয়ার হোসেনের দোকানে এসে মুরাদ হোসেন ও তার দলবল নিয়ে লাঠিসোটা লোহার রড দিয়ে মুরাদকে পিটিয়ে আহত করেন।

আনোয়ার হোসেন এ প্রতিবেদককে জানান `মুরাদ আমাকে প্রাণে মেরে ফেলার উদ্দেশ্যে মাথায় লোহার রড দিয়ে বাড়ি মারে, আমি মাথা সরিয়ে নিলে মাথার ডান পাশে পড়ে রক্তাক্ত জখম হয়। আব্দুর রহমান সাজু দুই হাত দিয়ে আমাকে মেরে ফেলার উদ্দেশ্যে গলা টিপে ধরে। বাবর হোসেন আমার পকেটে থাকা ২০ হাজার টাকা দামের একটি স্যামসাং মোবাইল নিয়ে যায়। আমার আরেক পকেটের টাকা নগদ ৩০হাজার টাকা মুরাদ হোসেন ছিনিয়ে নেয়। তারা আমার দোকানে থাকা পাওয়ার ব্যাংক সহ ১০টি মোবাইল সেট নিয়ে যায়। যার দাম ৭০ হাজার টাকা। এছাড়াও তারা আমার দোকানে থাকা ইলেকট্রিক মালামাল ভাঙচুর করে। এই সময় আমি শৌরচিৎকার দিলে রুবেল, ইসমাইল, আব্দুস শহীদ, রুমান, জোসনাসহ বেশ কয়েকজন এসে আমাকে উদ্ধার করে উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করে।

জানা গেছে মুরাদ হোসেন ফাজিল মিয়ার হাট বাজার পরিচালনা কমিটির কার্যকরী সদস্য। সভাপতি হাফিজ মিয়া চাচা, সেক্রেটারি ডা. গিয়াস উদ্দিন আপন মামা, সহসভাপতি আব্দুল মতিন আপন চাচাতো ভাই, স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার ইসমাইল চাচাতো ভাই, মুরাদের আপন ভাই ডা. জাহাঙ্গীর কার্যকরী সদস্য হওয়ার সুবাদে মুরাদ যাকে তাকে ধরে মারে, তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখায়।

মুরাদ এর আগেও মাল্টিপারপাস খুলে যথেষ্ট হয়রানি করেছিল গ্রাহকদের। অতিরিক্ত টাকা হাতিয়ে নেয়াসহ পুলিশ দিয়ে হয়রানি করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
মুরাদের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি বলে তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে ফাজিল মিয়ার হাট বাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি হাফিজ মিয়া জানান -আমি ঘটনাটা মঙ্গলবার শুনেছি, বুধবারে মিটিং করেছি। এ সময় উপজেলা চেয়ারম্যান ফোনে আমাকে ঘটনাটা সম্পর্কে বলেছেন। আনোয়ার হোসেন ও মুরাদ দুজন দুজনকে মেরেছেন বলে শুনেছি। সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে বিচার করা হবে।

আনোয়ার হোসেন প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করছেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে