শিশু দের জন্য প্রধান ঘাতক হল মোবাইল ফোন I TARUNNO BD 24

0
796

বোরহান উদ্দিন সাকিব: আমেনা বেগমের দুই সন্তান। চার বছর ও দু`বছর বয়স তাদের। একেবারেই খেতে চায়না। খাওয়াতে বসালেই নানা বায়না। প্রতিবেশীদের দেখা দেখি সাহেদা বেগম খাওয়ানোর সময় বাচ্চাদের হাতে মোবাইল ফোন দেন। তারা ইউটিউবে গান শুনতে শুনতে, কার্টুন দেখতে দেখতে খায়। আমেনাবেগম নিশ্চিন্ত হন। যাই হোক, বিনা ঝামেলায় বাচ্চারা এখন পেটপুরে খায়।

এভাবেই বাবা-মায়েরা সন্তানকে শান্ত রাখতে বা তাদের দাবি মেটাতে সন্তানের হাতে তুলে দিচ্ছেন স্মার্ট ফোনসহ নানা ধরণের দামী গেজেট। এতে একদিকে যেমন বাবা মায়েরা নিশ্চিন্ত হচ্ছে অন্যদিকে তেমনি তারা এটাকে আভিজাত্যের অংশ মনে করছে।

কিন্তু চিকিৎসা বিজ্ঞান বলছে ভিন্ন কথা। বিজ্ঞানের দাবি, শিশুদের হাতে মোবাইল ফোনসহ কোনো ইলেকট্রনিক্স গেজেট দেওয়া উচিত নয়। এতে নানা ধরনের রোগের জন্ম হয় শিশুদের শরীরে। মোবাইল ফোন শরীরের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকারক। মোবাইল ফোন থেকে নির্গত রশ্মি শিশুদের দৃষ্টিশক্তির ভীষণ ক্ষতি করে। যেসব শিশু দৈনিক পাঁচ-ছয় ঘন্টা মোবাইল ফোনে ভিডিও গেম খেলে, খুব অল্প বয়সে তারা চোখের সমস্যায় পড়বে।
যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক এক গবেষণায় দেখা যায়, ১১ বছর বয়সী শিশুদের প্রতি ১০০ জনের মধ্যে ৭০ জন মোবাইল ফোন নিয়মিত ব্যবহার করে। বাংলাদেশে তেমন কোনো গবেষণা প্রতিবেদন তৈরী না হলেও অনুমাণ করতে কষ্ট হয়না পরিমাণটা কম নয়। গবেষণা প্রতিষ্ঠাণ `উই আর সোশ্যাল` ও `হুট স্যুট` নামক প্রতিষ্ঠানের করা এক গবেষণা প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ভারত ও তার আশেপাশের রাষ্ট্রগুলোতে মোবাইল ফোন ব্যবহারের প্রবণতা সবচেয়ে বেশি। চীনের মতো প্রযুক্তি বান্ধব রাষ্ট্রে যেখানে শিশুরা দৈনিক দুই ঘন্টা মোবাইল ফোনে ব্যবহার করে, সেখানে ভারত ও তার আশেপাশের রাষ্ট্রগুলোতে শিশুরা গড়ে পাঁচ ছয় ঘন্টা মোবাইল ফোন ব্যবহার করে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, শিশুরা এক মিনিট মোবাইলে কথা বললে মস্তিষ্কে যে কম্পন সৃষ্টি হয় তা স্থির হতে সময়আমরা সময় পার করার জন্য ও বিনোদনের অনুসঙ্গ হিসেবে আমাদের শিশুদের হাতে মোবাইল ফোন তুলে দিচ্ছি। এর ক্ষতিকর দিক নিয়ে ভাবছি না। মোবাইলের পরিবর্তে তাদের হাতে বই দেওয়া উচিত। পর্যাপ্ত খেলাধূলার সুযোগ দেওয়া উচিত। পারিবারিক সম্পর্কগুলোর চর্চা বাড়ানো উচিত। একটা সুস্থ আগামী প্রজন্মের জন্য এর বিকল্প নেই।

শিশুরা আগামী দিনের ভবিষ্যত। তাদের দৈহিক ও মানসিক সুস্থ গঠনের লক্ষ্যে আমরা আরো সচেতন হবো এটাই প্রত্যাশা।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে