অগ্নিঝুঁকিতে রয়েছে গাইবান্ধার ৭৭টি মার্কেট ও সুপার মার্কেট I TARUNNO BD 24

0
737

রাকিবুল ইসলাম,গাইবান্ধা প্রতিনিধি: গাইবান্ধা জেলায় গড়ে উঠেছে অসংখ্য মার্কেট ও সুপার মার্কেট। দুই বছর আগে ৭ উপজেলার ৭৭টি মার্কেট ও সুপার মার্কেট পরিদর্শন করেছে গাইবান্ধা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর। এর মধ্যে একটিও সন্তোষজনক পায়নি তারা। তাই তারা এই মার্কেটগুলো ঝুঁকিপূর্ণ ও অতি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ২০১৭ সালের পর গাইবান্ধা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর নতুন করে আর কোন তালিকা তৈরি করেননি।

গাইবান্ধা ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, ৭৭টি মার্কেট ও সুপার মার্কেটের মধ্যে সদর উপজেলার ২৫টি মার্কেটের মধ্যে ১৩টি রয়েছে অতি ঝুঁকিপূর্ণ। আর ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে সদর উপজেলায় ১২টি, গোবিন্দগঞ্জে ২৮টি, পলাশবাড়ীতে আটটি, সাঘাটায় ৭টি, সাদুল্লাপুরে ৪টি, ফুলছড়িতে ৩টি ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় দুইটি। ফায়ার এক্সটিং গুইসার (সিলিন্ডার), পানির রিজার্ভ ট্যাংক, বালুভর্তি বালতি ও বিকল্প সিঁড়ি না থাকাসহ অগ্নিনির্বাপণের কোন ব্যবস্থাই নেই এসব মার্কেটে।

সদর উপজেলার অতি ঝুঁকিপূর্ণ মার্কেটগুলো হচ্ছে শহরের স্টেশন রোডের সালিমার সুপার মার্কেট, ইসলাম প্লাজা, পাল ম্যানশন, জে সি দেব প্লাজা, আব্বাছ উদ্দিন টাওয়ার, বাসনা মার্কেট, খান মার্কেট ও রেজিয়া ম্যানশন, সার্কুলার রোডের এলিসা সুপার মার্কেট, পি কে বিশ্বাস রোডের চৌধুরী শপিং কমপ্লেক্স, ডিবি রোডের আইনজীবি সুপার মার্কেট, বালাসী রোডের গ্রীন সুপার মার্কেট এবং পুরাতন বাজারের হাজী ম্যানশন। এর মধ্যে ইসলাম প্লাজায় সম্প্রতী ফায়ার সার্ভিস অগ্নিকা-কালীন মহড়া করতে চাইলে প্রথমে সম্মতি দেয়নি মালিকপক্ষ। পরে সম্মতি মেলে মহড়ার।

আর ঝুঁকিপূর্ণের তালিকায় থাকা সদর উপজেলার মার্কেটগুলো হচ্ছে শহরের পার্ক ভিউ সুপার মার্কেট, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স, তালুকদার মার্কেট, প্রাণ গোবিন্দ প্লাজা, আঃ ছালাম আজমেরী মার্কেট, গফুর মার্কেট, সমবায় মার্কেট, চুড়িপট্টি মার্কেট, তরফদার মার্কেট, শাপলা সুপার মার্কেট, খান সুপার মার্কেট ও নিউ মার্কেট, গোবিন্দগঞ্জের বাপ্পী ম্যানসন, গোলাপ সুপার মার্কেট, জাহানারা সুপার মার্কেট, টি এস প্লাস, রাজমতি সুপার মার্কেট, সৌরভ প্লাজা, নুর জাহান কমপ্লেক্স, বনফুল বি প্লাস মার্কেট, কুন্ডু ভিলা ম্যানসন, ফার্মেসী জহুরা মার্কেট, অছির উদ্দিন প্লাস এন্ড ব্রাদার্স, হক ম্যানসন, জলিল মিয়া সুপার মার্কেট অ্যান্ড ব্রাদার্স, এইচ বি প্লাজা অ্যান্ড ব্রাদার্স, হক সুপার মার্কেট, মেসার্স রাসেল অ্যান্ড ব্রাদার্স, তপন সুপার মার্কেট, জাওয়াদ প্লাজা, হাজী আব্দুল সুপার মার্কেট, পার্বতী সুপার মার্কেট, দোলন প্লাজা, শোভা মার্কেট, শ্রী কৃষ্ণ মোস্ত সুপার মার্কেট, হাসান প্লাজা, উদয়ন প্লাজা, আমেনা সুপার মার্কেট, জহির কমপ্লেক্স ও কল্পনা সুপার মার্কেট, পলাশবাড়ীতে আল মদিনা সুপার মার্কেট, মোল্লা মার্কেট, ডাক বাংলা সুপার মার্কেট, আলীম উদ্দিন সরকার সুপার মার্কেট, এস এম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মার্কেট, পিয়ারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মার্কেট, সৈয়দ প্লাজা, হাসনা সুপার মার্কেট, সাঘাটায় চৌধুরী মার্কেট, মুজিব সুপার মার্কেট, এন এস ইসলাম প্লাজা, মন্ডল মার্কেট, বোনারপাড়ায় উপজেলা মসজিদ মার্কেট, মন্ডল মার্কেট কলেজ রোড, সাদুল্লাপুরে মন্ডল সুপার মার্কেট, মা-বাবার দোয়া মার্কেট, ইতি মার্কেট, খান সুপার মার্কেট, ফুলছড়িতে আশরাফুল ইসলাম মার্কেট, আফিয়া মার্কেট, মেছের উদ্দিন চেয়ারম্যান মার্কেট এবং সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় মন মোহন মার্কেট ও মনছুর সুপার মার্কেট রয়েছে ঝুঁকিপূর্ণের তালিকায়।

কয়েকটি মার্কেটের মালিক পক্ষের সাথে যোগাযোগ করা হলে এ বিষয়ে তারা বলেন, আমরা অগ্নিঝুঁকিমুক্ত মার্কেট গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করছি। তবে এই জেলায় বড় কোন অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে নি। যান মাল রক্ষার জন্য অগ্নিঝুঁকিমুক্ত ভবন বা মার্কেট গড়তে যে সব ব্যবস্থা নেয়া দরকার আমরা তা মেনে চলবো।

গাইবান্ধা ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক আমিরুল ইসলাম সরকার বলেন, দুই বছর আগে পরিদর্শন করা এসব মার্কেট এখনো অগ্নিঝুঁকিমুক্ত করতে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেয়নি মালিকপক্ষ। আবারও পরিদর্শন করে মার্কেটগুলোকে তিন মাস সময় বেঁধে দেওয়া হবে। এই সময়ের মধ্যে ভবন অগ্নিঝুঁকিমুক্ত না করলে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা হবে। সেই সাথে এসব মার্কেটে অগ্নিঝুঁকিপূর্ণ ভবন লেখা সাইনবোর্ড লাগানো হবে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে